আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ২ এপ্রিল ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার–এর নেতৃত্বে ৪০টি দেশের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে এতে অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজাই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। ইরানের আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য তীব্রভাবে বেড়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই জোটে যোগ দিয়েছে এবং যৌথভাবে ইরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দেশের দায়িত্ব নয়। তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে ন্যাটো থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামরিক পদক্ষেপকে অবাস্তব উল্লেখ করে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন।
সমুদ্র নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স–এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ২৩টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১১ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
ইরান দাবি করছে, তারা কেবল শত্রুপক্ষের জাহাজ আটকাচ্ছে। তবে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ কোম্পানি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন