আরসিটিভি ডেস্ক 

শীতকাল যেমন আরামদায়ক আবহাওয়া আর গরম কাপড়ের আমেজ নিয়ে আসে, তেমনি অনেকের জন্য বুক ফ্যাসফ্যাস করা, নাক বন্ধ হওয়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো অস্বস্তিও বয়ে আনে।
বিশেষ করে শহর ও সমতল অঞ্চলগুলোতে শীতের সময় এই সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বায়ুদূষণ এবং ঘন কুয়াশার সঙ্গে ধুলিকণা মিশে তৈরি হওয়া স্মগ আমাদের শ্বসনতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া শীতের শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস নাক এবং ফুসফুসের ভেতরের আস্তরণকে সংকুচিত করে ফেলে, যার ফলে নাকে ব্লকেজ তৈরি হয় এবং বুকে চাপের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। ঘরের ভেতরে হিটার, কয়লার চুলা বা কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়াও এই শ্বাসকষ্টকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
শীতকালীন এই শারীরিক সমস্যার পেছনে আরও কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। এই ঋতুতে পানি পানের পরিমাণ কমে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ উত্তপ্ত বদ্ধ ঘরে থাকা এবং ভাইরাল ফ্লু বা সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার ফলে শিশু, বৃদ্ধ এবং অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়।
নাক বন্ধ থাকলে কেবল শ্বাস নিতেই অসুবিধা হয় না, বরং এটি মাথাব্যথা এবং ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটায়। আবার বুকের জঁট বা ভারি ভাব সময়মতো চিকিৎসা না করলে তা ব্রঙ্কাইটিস বা অ্যাজমার মতো গুরুতর সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
শীতের এই সাধারণ সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া প্রতিকার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন নাক বন্ধ ভাব দূর করার একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি, যেখানে ইউক্যালিপটাস বা পিপারমিন্ট অয়েল যোগ করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
আদা, মধু ও লেবু দিয়ে তৈরি গরম চা বুকের কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এক চিমটি হলুদ মেশানো কুসুম গরম দুধ পান করলে শ্বাসনালী প্রশমিত হয় এবং আরাম পাওয়া যায়।
শীতকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কুসুম গরম পানি পান করা এবং ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার বা এক পাত্র পানি রাখা বেশ উপকারী। বাইরে বের হওয়ার সময় স্কার্ফ বা মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখলে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে ঢুকতে পারে না।
যদি শ্বাসকষ্টের সঙ্গে তীব্র জ্বর কিংবা অনবরত কাশি থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সামান্য সতর্কতা এবং ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমেই শীতের এই শারীরিক জটিলতাগুলো কাটিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।
মন্তব্য করুন