ঠাকুরগাঁওয়ে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমি দখল এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি দক্ষিণ বঠিনা এলাকায় বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবু তালেবসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৈলাশ চন্দ্র বর্মন (৬২) সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, কৈলাশ চন্দ্র বর্মনের সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) আবু তালেব (৪৮), আব্দুল গফ্ফার (৫০)সহ আরও কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন।
এরই মধ্যে শনিবার সকালে আবু তালেব ও গফ্ফারসহ প্রায় ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে কৈলাশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা তাকে দেখে হুমকি দেয়—
“ভালোয় ভালোয় জমি ছেড়ে পরিবার নিয়ে ভারতে চলে যা। মামলা তুলিস না, না হলে তোকে পঙ্গু করে ফেলবো, পরিবারের সবাইকে হত্যা করে পুতে রাখবো।”
কৈলাশ চন্দ্র বর্মন বলেন,
“জমিটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তারা জোর করে দখল নিতে এসেছে। প্রতিদিনই ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কখনো বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গালিগালাজ করছে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চাই।”
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য বিশু মোহাম্মদ বলেন,
“জমিটি বহুদিন ধরে কৈলাশের দখলে আছে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন—রায় যার পক্ষে যাবে, জমি তার হবে। কিন্তু রায় হওয়ার আগে এভাবে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জমি দখলে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আবু তালেবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জমি দখল, নারী নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দিনাজপুরে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করে।
তারা আরও জানান, সরকারের পরিবর্তনের পর আবু তালেব আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে—তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মনের ব্যবসা ও বাড়িঘর দেখাশোনার দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন নেতার কাছ থেকে আশ্রয়ের নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অভিযোগ সম্পর্কে আবু তালেব, আব্দুল গফ্ফার ও নজরুল ইসলাম বলেন,
“সব অভিযোগই মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জমিটি আমাদের ক্রয়কৃত এবং ভোগদখলে আছে। কাউকে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখাইনি। নারীর বিষয়ে কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক অভিযোগও সাজানো। আমাদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন,
“অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত চলছে। প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন