দেশ গড়ার যুদ্ধে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন মির্জা ফখরুল
আমরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ছিলাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধেও ছিলাম। আজ সেই গণতান্ত্রিক যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের কাজ করার সময়। তবে, এখানে আমাদের কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। এই বয়সে এসে আমি সেটি উপলব্ধি করছি।
তিনি আরও বলেন, “আজ আমাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে, নির্যাতন সহ্য করেছে। ৮০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছে, ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মী বিনা বিচারে নিহত হয়েছে। এমন কঠিন সময় অতিক্রম করার পরও আমরা সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারছি না। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এসে সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করতে হবে, যা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।”
মির্জা ফখরুল তরুণদের প্রশংসা করে বলেন, “তরুণ প্রজন্মের মাঝে আমি প্রচুর সম্ভাবনা দেখি। একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখলাম, তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অসাধারণ মতামত দিয়েছে। তারা পরিবর্তনের কথা বলছে। তাদের দেশপ্রেম আমাকে অভিভূত করেছে। তরুণদের শক্তি ও উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ থাকলেও দেশপ্রেমের জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে আমরা নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”
গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা ভোট দিতে পারিনি। ১৫ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা ১৫ বছরে ২৮০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির নামে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হয়েছে। তবে, এখন দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “তোমাদের সামনে বড় দায়িত্ব রয়েছে। দেশের অর্থনীতি এখন সংকটাপন্ন। ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও নেতা উঠে আসবে। তারা দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও কর্মক্ষমতা রয়েছে। তারা আন্দোলন করছে, প্রাণ দিচ্ছে। আমরা তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই সংগ্রামে জয়ী হব। তরুণরাই আমাদের স্বপ্ন ও আশা।”
দিনাজপুর সরকারি কলেজে শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭২ সালে আমি এই কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এখানে আমি ছাত্রদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি, নাটক করেছি। দিনাজপুরে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জীবনের সুন্দর সময় কেটেছে। আমি গর্বিত যে আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দিনাজপুরে অতিবাহিত হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম আল আব্দুল্লাহ, অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক শিক্ষার্থী মতিউর রহমানসহ অনেকে।
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্য শেষ করেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করে, “ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা তাদের সমর্থন দিয়ে দেশপ্রেম ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।”
মন্তব্য করুন