পরীক্ষামূলক
LIVE TV

ইমামদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান সুসংহত করতে কাজ করছে সরকার : হুইপ দুলু

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান সুসংহত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) নাটোর জেলা মডেল মসজিদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ দুলু বলেন, ইমামরা সমাজে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন মসজিদের ১৭৮ জন ধর্মীয় নেতাকে বর্তমানে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সুবিধার আওতা আরও বৃদ্ধি করে শতভাগ ধর্মীয় নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্মানী ভাতার মাধ্যমে ইমামদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে হুইপ দুলু বলেন, অতীতে দেশের ধর্মীয় নেতারা নানা ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনো ইসলামবিরোধী অপশক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভেদ ও মতানৈক্য পরিহার করে ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজুল ইসলাম।

সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম, ধর্মীয় নেতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, চলতি অর্থবছরে নাটোর জেলার ৫০ জন ইমাম রাজশাহীর ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে দেড় মাসব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। প্রশিক্ষণে কৃষিকাজ, গাভী পালন, মৎস্য চাষ, সামাজিক বনায়নসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ ইমামদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ এলাকায় কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় নেতাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সম্মেলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন