পরীক্ষামূলক
LIVE TV

চিলমারীতে ১শত টাকার পেট্রোল দেয়ার নির্দেশ, বাইকারদের বিক্ষোভে সিদ্ধান্ত বদল

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জ্বালানি তেলে নিয়ে চলছে তেল কান্ড, বাইকারদের অপেক্ষা, বিপাকে পাম্প মালিক। উপজেলার একমাত্র সাগর ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল প্রতি মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল বিক্রির মৌখিক নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাইকাররা, যা পরবর্তীতে হট্টগোল ও উত্তপ্ত রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়।

বুধবার সকাল ১০ টার দিকে ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এরআগে মঙ্গলবার ইউএনও সরেজমিন পাম্প পরিদর্শন করে মৌখিকভাবে এ নির্দেশ দেন। জানা গেছে, প্রতিদিন ২০০ টাকা নির্ধারিত মুল্যের পেট্রোল দেয়া হত। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বাইকাররা তেল নিয়ে আসলে ইউএনওর নির্দেশনায় পাম্প সংশ্লিষ্টরা ১শত টাকার তেল দেয়া শুরু করলে তেল না নিয়ে চালকরা হট্টগোল জড়িয়ে পরেন এসময় পরিবশে উপ্তত সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে আবারো ২শত টাকার তেল বিক্রি শুরু করেন কর্তৃপক্ষ।

পাম্প সূত্র ও সরেজমিন দেখা গেছে,  বর্তমান যে পরিমান তেল বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। এর কারণ হিসেব উলিপুরের বড় একটা অংশ এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একটা অংশের চালকরা এই পাম্পে আসেন তেল নিতে ফলে যতটুকু তেল বরাদ্দ পাওয়া যায় তা সকল বাইকারদের মাঝে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। রাত থেকেই পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পাম্প কর্তৃপক্ষ ১শত টাকার বেশি তেল দিতে অস্বীকৃতি জানালে উপস্থিত বাইকাররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তারা দাবি করে বলেন,  ১শত টাকার পেট্রোলে বর্তমান বাজারে এক লিটার তেলও পাওয়া যায় না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালকদের জন্য এই পরিমাণ তেল অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। দীর্ঘ সময় হট্টগোল চলার পর উপস্থিত সবার দাবির মুখে ১শত টাকার বদলে সর্বোচ্চ ২শত টাকার তেল দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পুনরায় তেল বিক্রি শুরু হয়।

রহিম নামে এক বাইক চালক জানান, চিলমারীর পাম্পে প্রতিদিন তেল দেয়ায় উলিপুর থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে। এখন যদি ১শত টাকার তেল দেয়া হয় তাহলে উলিপুর যেতেই শেষ হবে। মেহেদি নামে আরেক চালক বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে দীর্ঘ লাইন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে অন্য উপজেলার বাইকের সংখ্যা বেশি হওয়ার স্থানীয়রাও এখন তেল পাচ্ছে না।
তেল বিক্রির মৌখিক নির্দেশনা দেয়া প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, মঙ্গলবার ১শত টাকার তেল দেয়া কথা বলা হয়েছিল। পরে বুধবার আবার ২শত টাকার তেল দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন