আরসিটিভি ডেস্ক 

ভারতের হায়দরাবাদ শহরের একটি কবরস্থান থেকে লুকিয়ে রাখা ৪১৪টি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর জিও নিউজের।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ ভারত। দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে, যার বেশিরভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে শুরু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত। এতে ভারতে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি সিলিন্ডার মজুত ঠেকাতে অভিযান জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুজাতা শর্মা বলেন, ‘শুধু গতকালই প্রায় ২ হাজার ৬০০টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং প্রায় ৭০০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি হায়দরাবাদের একটি কবরস্থানের ভেতরের একটি জায়গা থেকে প্রায় ৪০০টি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ওই কবরস্থান থেকেই বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি — দুই ধরনের সিলিন্ডারই বিক্রি করছিল এবং সেটা বাজারদরের প্রায় তিন গুণ দামে! যে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ২ হাজার ১০০ রুপি, সেটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জব্দ করা সিলিন্ডার এবং অভিযুক্তদের ব্যবহৃত কিছু গাড়ির মোট মূল্য প্রায় ২২ লাখ রুপি। তবে অভিযুক্ত বা তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।
সুজাতা শর্মা বলেন, ‘দেশের গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা থাকা সত্ত্বেও এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়নি। ‘
এলপিজি সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে ভারত সরকার কেরোসিন, কয়লা ও বায়োগ্যাসের মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুতগতিতে ঘরে ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন