স্পোর্টস ডেস্ক 

খেলায় কিভাবে এলেন?
আমিনুল হক : যখন ছোটবেলায় খেলা শুরু করেছি তখন শুধু চিন্তা করেছি যে বাংলাদেশ ফুটবল টিমে কিভাবে খেলতে পারব বা কিভাবে খেলা যায়? সেই অনুযায়ী অনেক চেষ্টা-সাধনা, অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমেই আমি প্রথম ১৯৯৬ সালের শেষে বাংলাদেশ টিমে ডাক পাই। তার আগের শুরুটা ১৯৯২ সালে যখন আমি পাইওনিয়ার ফুটবল লীগ খেলি, তখন থেকেই আমার একটি স্বপ্ন বা একটি আস্থা বিশ্বাস ছিল যে আমি বাংলাদেশ ফুটবল টিমে খেলব। আস্তে আস্তে বড় হচ্ছিলাম, পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য স্থির করেছিলাম যে আমি বাংলাদেশ ফুটবল টিমে খেলতে চাই। এভাবেই আসলে এগিয়ে গেছি।
এরই মধ্যে মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং দেশ গঠনে ভূমিকার কথা জানতে পারি। আর নিজেকে মনে মনে ওইভাবে তৈরি করি।
প্রশ্ন : সরাসরি রাজনীতিতে কখন জড়ালেন?
আমিনুল হক : আমি ১৯৯৬ সালে প্রথম বাংলাদেশ ফুটবল টিমে খেলার সুযোগ পেলাম। মনে মনে রাজনীতির প্রতি অনুরাগ রয়ে গেল।
মনের ভেতরে যে স্বপ্ন লালন করেছি, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ফুটবল টিম থেকে বিদায় নিয়ে সেটিকে বাস্তবায়ন করেছি। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ আমি বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করি। আপনারা জানেন যে তখন রাজনীতির একটি ভয়াল ও কঠিন সময় পার করছিল। যখন আমি যোগদান করি তখন অনেকেই আমাকে পাগল বলেছিল।
সবাই বলছিল আমিনুল পাগল হয়ে গেছে! তখন আমার পরিবার থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব সবাই নিষেধ করেছিল। কিন্তু আমি সব সময় ভেবেছি যে সুসময়ে তো অনেকেই থাকে, কিন্তু দুঃসময়ে দলের পাশে থাকাটা হচ্ছে সবচেয়ে জরুরি কর্তব্য। এভাবেই আসলে আমার ফুটবলার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা। এর পর থেকে আমি দলের প্রতিটি কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পালন করেছি। মামলা-হামলা ও জুলুমে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছি।
আর এভাবেই ফুটবলার থেকে রাজনীতিবিদ, আর রাজনীতিবিদ থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আমি যখন খেলেছি তখন ক্রীড়াঙ্গনের আমাদের যারা সংগঠক ছিল বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল তাদের বলেছি যে এটা করা উচিত, ওটা করা উচিত। বিভিন্ন অভিযোগ করেছি। আর আজ আমি সেই জায়গায়। এখন অভিযোগগুলো সমাধান করার দায়িত্ব আমার কাঁধে। যেহেতু আমি একজন খেলোয়াড় ছিলাম, আমি জানি সমস্যাগুলো কোথায়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ক্রীড়ামোদী একজন মানুষ। সেই জায়গা থেকে আমরা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করছি যে আগামীর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অভিনব কিছু উদ্যোগ সামনে নিয়ে এগোব। হকি, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, ভলিবল, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল বা অন্য কোন খেলায় আমাদের অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে। যেমন—এরই মধ্যে এশিয়া কাপে আমাদের আর্চারিতে ছেলেরা গোল্ড মেডেল পেয়েছে। আমরা ফুটবল, ক্রিকেটকে পাশে রেখে তাদের ফোকাস করতে চাই। প্রতিটি খেলাকে আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিতে চাই। এখানে কিন্তু কোনো বৈষম্য নেই।
প্রশ্ন : আপনার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জার্নিটা কতটা চ্যালেঞ্জের ছিল?
আমিনুল হক : এটার জন্য আমাকে অনেক কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। টিম প্ল্যানিং থেকে যে ট্রেনিং সেশনটি করানো হতো, আমি নিজেকে তৈরি করতে আরো এক্সট্রা ট্রেনিং করতাম। কারণ আমার লক্ষ্য হচ্ছে যে আমি কত দ্রুত বাংলাদেশ ফুটবল টিমে যোগদান করব এবং বাংলাদেশ দলকে কিভাবে সার্ভ করব। দেখা গেছে যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে, অন্ধকার হয়ে গেছে, তখনো আমি মাঠে। আমি যখন ১৯৯৬ সালে প্রথম ঢাকার মাঠে ফরাশগঞ্জের হয়ে নামি, ওই বছরটি ছিল আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সেরা সময়। আল্লাহর অশেষ রহমতে ঠিকই আমি দুই বছর পরে এসে নেপালের যে সাফ ফুটবল হয়েছিল সেখানে দলের হয়ে ডাক পেয়েছিলাম। সেই ডাকের মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশ ফুটবল টিমে অংশগ্রহণ করি। যতক্ষণ পর্যন্ত খেলায় ছিলাম, খেলাটাকে উপভোগ করেছি। পরে যখন রাজনীতিতে যোগদান করেছি, তখন চেষ্টা করেছি দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে শতভাগ ডেডিকেশন দিয়ে কাজ করতে।
সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে ১৯ জুলাই যখন মধ্যরাতে আমাকে অ্যারেস্ট করা হয় তখন দীর্ঘ ১৩ দিন আমি ডিবির কার্যালয়ে ছিলাম। এই দীর্ঘ ১৩ দিনে আমাকেসহ নেতাকর্মীদের শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমি দীর্ঘ এই জুলাই আন্দোলনে সর্বোচ্চ রিমান্ডে কেটেছি। প্রতিটি সন্ধ্যা ছিল আমাদের জন্য আতঙ্কের। কারণ প্রতিটি সন্ধ্যায় আমাদের গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে তার পরে পেছনে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হতো। এভাবে টর্চার সেলে নিয়ে যে নির্যাতন করা হতো তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এই যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, সবকিছুর ভেতরে থেকেও চেষ্টা করেছি মানুষের জন্য কাজ করতে। আত্মতৃপ্তিটা সেখানে।
প্রশ্ন : আপনি এখন বাংলাদেশের খেলার জগতের একজন কাণ্ডারি। এটা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জের? এখন সবাই আপনার কাছে আসবে দাবি আদায়ের জন্য। সবাইকে সন্তুষ্ট করতে তো বাজেট লাগবে।
আমিনুল হক : বাস্তবিক অর্থে আসলে সবাইকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করা কখনোই সম্ভব নয়। এরই মধ্যে আমি বলেছি যে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করব। নতুন করে স্পোর্টসের মাধ্যমে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে সেই প্রতিভা তুলে নিয়ে আসব। তাদের আবার সরকারিভাবে ক্রীড়া বৃত্তি প্রদান করা হবে। তাদের জন্য স্থায়ীভাবে একটি বন্দোবস্ত করা হবে। খেলাধুলার জন্য সবচেয়ে বড় দরকার হচ্ছে মাঠ। মাঠের অনেক সংকট এবং এরই মধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করে দিয়েছে। এই কমিটি মাঠ কিভাবে সংরক্ষণ করা যায়, কিভাবে খালি জায়াগায় মাঠ তৈরি করে প্রত্যেকটি তৃণমূলের এলাকার পাড়া-মহল্লার সবার জন্য যাতে খেলার একটি সুব্যবস্থা করে দিতে পারি সে বিষয়ে কাজ করছি।
রাতারাতি তো সম্ভব নয়। এটা সময়সাপেক্ষে ব্যাপার। তবে একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা ঢাকা মহানগরী থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে মাঠ তৈরি করার মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনার কাজ শুরু করেছি। আমরা সেভাবেই চিন্তা করেছি যে নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে যেভাবে আমরা প্রতিভা অন্বেষণ করব ঠিক সেভাবে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে দেব। তৃণমূলের সবার খেলার ব্যবস্থার মাধ্যমে মাদকমুক্ত একটি সমাজ গড়তে কাজ করব। আমাদের সন্তানরা ডিভাইস থেকে যাতে দূরে থাকে সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।
আমরা চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। এটা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে করব। আমাদের ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, মার্শাল আর্ট, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার এই সাতটি খেলাকে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। সেই খেলাগুলো যখন বাধ্যতামূলক করা হবে দেখা যাবে যে আমাদের সন্তানরা ডিভাইস ও মাদকের আসক্তি থেকে সরে যাবে। খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার কারণে তাদের বাংলা, ইংলিশ বা অন্যান্য সাবজেক্টে যেভাবে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়, সেভাবে খেলাধুলায়ও থিওরিটিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল দুটিতেই পাস করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তখন প্রত্যেক মা-বাবাও চিন্তা করবেন না যে আমার ছেলেকে বা আমার মেয়েকে তো মাঠে পাঠাতে হবে। অটোমেটিক্যালি কিন্তু বাবা-মা ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার মধ্যে যুক্ত করবেন। এর মাধ্যমে একটি আমূল পরিবর্তন আসবে।
এর মাধ্যমে আমরা কর্মসংস্থানেরও একটি সুযোগ তৈরি করছি। কারণ আমি যখন ফুটবল, ক্রিকেট বা ভলিবল অথবা আমাদের সাঁতারের জন্য যখন বাধ্যতামূলক করব, তখন কিন্তু ইনডিভিজুয়াল স্পোর্টসের জন্য একজন ক্রীড়া শিক্ষক প্র্রয়োজন হবে। আমাদের প্র্রায় এক লাখ ৪৮ হাজারের বেশি প্র্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিটি ইভেন্টের জন্য আমরা ৪৯৫টা উপজেলায় আমরা ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দেব। ওই উপজেলার অধীনে যতগুলো স্কুল থাকবে সেই স্কুলগুলোর প্রতিটি ইভেন্টের জন্য আমরা তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেব। এভাবে সাতটি ইভেন্টে ২১ জন আর একজন ক্রীড়া অফিসার থাকবেন। টোটাল ২২ জনের মাধ্যমে আমরা ৪৯৫টি উপজেলার জন্য প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।
আমাদের যারা খেলোয়াড় রয়েছে, তারাই এসব ক্রীড়া শিক্ষক হতে পারবে। তখন আর তাদের মধ্যে অবসর সময়ে কাজের জন্য হতাশা থাকবে না। এটা রাতারাতি সম্ভব না, কিন্তু আমরা স্টার্ট করতে চাই। এটি আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছর পরই হিউজ একটা রেজাল্ট আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখতে পাব ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন : এসব করতে আমাদের আমলাতন্ত্র বা সিস্টেমসহ অন্যান্য মেশিনারিজ আপনাকে কতটুকু হেল্প করার জন্য প্র্রস্তুত?
আমিনুল হক : পরিকল্পনাগুলো একদমই নতুন। তাই চ্যালেঞ্জ আছে। তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের যে আন্ত মন্ত্রণালয়ের মিটিং হবে বা আমাদের বাজেটিংয়ের ইস্যু রয়েছে। কিছু বাধা তো অবশ্যই আসবে। বাট আমি বিশ্বাস করি, সেগুলোকে আমরা আগামীর বাংলাদেশকে স্পোর্টসবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাব। এরই মধ্যে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি, আমাদের কোন কোন ক্ষেত্রে কী পরিমাণ বাজেট দরকার এবং সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা স্পোর্টসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমি এরই মধ্যে আমাদের বাংলাদেশের যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বসেছি। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি, সার্বিক বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছু বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রশ্ন : বাজেট কত হতে পারে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে? তার কোনো প্র্রক্ষেপণ কি করেছেন?
আমিনুল হক : আমাদের যে এক্সিস্টিং বাজেট সেটা অত্যন্ত কম। এটা বাড়াতে হবে। না হলে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো করছি, সেটা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। ইতিমধ্যে আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমরা পর্যাপ্ত বাজেটের মাধ্যমে যাতে তা বাস্তবায়ন করতে পারি, সে বিষয়ে এরই মধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সামনে আমরা সেই আলাপ-আলোচনা করে সাবমিট করব। কিন্তু বর্তমানে যেটি আছে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন : আগের বাফুফে প্রেসিডেন্ট অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য করে বৈষম্য করেছেন। বিশেষ করে নারী ফুটবলারদের সঙ্গে। এ ছাড়া খেলা যতটা এগোনোর কথা আগায়নি কেন?
আমিনুল হক : সুশাসন এবং নিরাপত্তা দুটি খুব মেজর ইস্যু আমাদের স্পোর্টসের জন্য। আগে যেভাবে দলীয়করণ করেছে রাজনৈতিকীকরণ করেছে, রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সেই দলের নামের ব্যবহার করে তারা এই সমস্যাগুলো তৈরি করেছে। আমাদের যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সেখানে ক্রিকেট বোর্ড বলেন, ফুটবল ফেডারেশন বলেন, অন্যান্য ফেডারেশনে যারা দায়িত্বশীল থাকবে সেখানে আমরা সবাইকে একটি জবাবদিহির আওতায় আনতে চাই এবং ক্রীড়াঙ্গনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নারীদের নিরাপত্তাহীনতার যে বিষয়গুলো সেগুলো যাতে না থাকে সেদিকে নজর দেব। খেলাধুলাকে আমরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে চাই।
প্রশ্ন : বিসিবির কমিটি নিয়ে অনেক সমালোচনা। এটা নিয়ে কী করবেন?
আমিনুল হক : দেখেন, এখনো তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট এখনো আমার হাতে আসেনি। তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আসলে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না এবং তদন্ত রিপোর্ট আসার পরে আমি সেই তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে তারপরে এই বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে কথা বলব। তারপরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।
প্রশ্ন : আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেন খেলতে যেতে পারলাম না? এটা নিয়ে কোনো তদন্ত করবেন?
আমিনুল হক : কেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি, তার কারণ খুঁজতে আমার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা কেন মানে ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যাটি সমাধান করতে পারি নাই, সে বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখব। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন একটি আস্থা এবং ভরসার জায়াগা তৈরি করেছে। কিন্তু আমাদের যে তৃণমূলের যে ক্রিকেট বিশেষ করে আমাদের যে মানে একসময় নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট হয়েছে, একসময় আমরা থার্ড ডিভিশন ক্রিকেট দেখেছি, সেকেন্ড ডিভিশন ক্রিকেট দেখেছি, ফার্স্ট ডিভিশন দেখেছি, প্রিমিয়ার—এসবের এখন আর ধারাবাহিকতা নাই। আমরা একদম তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটকে ও ফুটবলকে ছড়িয়ে দিতে চাই।
মন্তব্য করুন