আরসিটিভি ডেস্ক 

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানামুখী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু উদ্যোগ নিলেও বাস্তবতায় এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল। এর ফলে নাগরিকের নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে জনমনে হতাশা ও উদ্বেগ বেড়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুথ্যান পরবর্তী মানবধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা’ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনটি সংবাদ মাধ্যমের সামনে পাঠ করেন এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজারের বেশি
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে, যার ফলে কমপক্ষে ১৯৫ জন নিহত ও ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সমাবেশ কেন্দ্রিক হিংসা, কমিটি গঠন বিরোধ, নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘাত, চাঁদাবাজি ও স্থাপনা দখল। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বিএনপির ওপর—৭০৪টি ঘটনায় ৭ হাজার ১৩১ জন আহত ও ১২১ জন নিহত।
অন্যদিকে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় অন্তত ২৩৬টি ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত ও ২৪৯ জন আহত হয়েছেন। গত ১৭ মাসে ৩০০-এর বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ, শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়, ১৩০-এর বেশি বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএনপি ৭০ শতাংশ, আওয়ামী লীগ ১৭ শতাংশ ও অন্যান্য দল ও অজানা পরিচয়ের ব্যক্তিও রয়েছেন।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন কেন্দ্রীক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বাড়ছে। মিছিল, বিক্ষোভ, হরতাল, মহাসড়ক অবরোধ ও বাড়িঘর-কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ মাসে অন্তত ১৫৫টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত ও ১ হাজার ৪০৩ জন আহত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী সিঙ্গাগাপুরে মারা যান; তিনি ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নিহত হন এবং বিএনপির প্রার্থীসহ আরও তিনজন আহত হন। ময়মনসিংহ-৩ আসনে মনোনয়ন দ্বন্দ্বে তানজিন আহমেদ নামে এক ছাত্রদল কর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন।
গণপিটুনি ও মব সহিংসতা
গত ১৭ মাসে দেশে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির অন্তত ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে চোর সন্দেহ, ছিনতাই ও ডাকাতির অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক ও শ্রমিক কর্মীসহ কিশোরদের ওপর হামলা ও গণপিটুনি ঘটেছে। রাজধানী, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, পাবনা, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনায় গত ২২ জুন সাবেক নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে হেনস্তা করা, ৫ মার্চ চট্টগ্রামে দুই জামায়াত কর্মী নিহত, ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক নিহত, ১৪ নভেম্বর রাজধানীতে ১৭ বছর বয়সী কিশোর নিহত এবং ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড
বিগত ১৭ মাসে অন্তত ৪২৭টি হামলার ঘটনায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন নিহত, ৩৭৯ জন আহত, ৯১ জন লাঞ্ছিত, ১০৩ জন হুমকির মুখে ও ৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যুর পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটেছে।
বিগত সময়ে মারাত্মক হামলায় মারা গেছেন মো. আসাদুজ্জামান তুহিন, ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু, বিভুরঞ্জন সরকার, মোহাম্মদ আমিন, এ এস এম হায়াত উদ্দিন, স্বর্ণময়ী বিশ্বাস ও ইমদাদুল হক মিলন। এছাড়া সাংবাদিক নুরুল কবীর, শওকত মাহমুদ ও আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন নারী সাংবাদিক দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনা দেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর বিভিন্ন ধারার অধীনে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। গত ১৭ মাসে সময়ে অন্তত ৪১টি মামলায় ৬৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। অধিকাংশ মামলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট, মন্তব্য, ছবি বা ভিডিওকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।
অনেকে অভিযোগের ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় আইনটির অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন। সমালোচকরা বলছেন, লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাধারণ নাগরিকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এইচআরএসএস সতর্ক করেছে, যথাযথ অনুসন্ধান ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের সম্মান না থাকলে এসব আইনের প্রয়োগ ব্যক্তি স্বাধীনতা, ডিজিটাল অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিসর আরও সংকুচিত করতে পারে।
বিচার বহির্ভূত হত্যা
বিগত ১৭ মাসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনের ঘটনায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন বন্দুকযুদ্ধ বা সংঘর্ষে, ২২ জন নির্যাতনে, ১২ জন হেফাজতে ও ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ৩ জন নারী, ৪ জন বিএনপি ও ১ জন আওয়ামী লীগের সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ভয়ে পালিয়ে বা অসুস্থ হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কারা হেফাজতে মৃত্যু
বিগত ১৭ মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ১২৭ জন আসামি মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৪৪ জন কয়েদি ও ৮৩ জন হাজতি। খুলনা, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্তার শিকদার, সিদ্দিক হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, ইমাম হোসেন, বাবুল হোসেন, সারোয়ার হোসেন নান্নু, ইউসুফ আলী মিয়া ও আহমদ মোস্তফা খান বাচ্চু নামে ৮ জন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও নরসিংদী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ঢামেকে মারা গেছেন। এছাড়া ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আবুল কালাম (৩৪) ও ২৯ নভেম্বর হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতদের মধ্যে কিছু পরিবারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের মৃত্যুর পেছনে পরিকল্পিত হত্যার প্রভাব থাকতে পারে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন
বিগত ১৭ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ৫৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ১৭টি মন্দির, ৬৩টি প্রতিমা ও ৬৫টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জমি দখলের মতো ৬টি ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখযোগ্য ঘটনায় যশোর, রাজশাহী, রংপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ও আহতদের মধ্যে এস এম তরিকুল ইসলামকে হত্যার ঘটনা, খেতুরী ধামের হামলা, রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আক্রমণ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে পূজামণ্ডপে হামলা এবং ঠাকুরগাঁওয়ে বৈদ্যুতিক শক ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সিলেটে ঐতিহাসিক আখড়ায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া ও ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও শান্তি বিস্তারে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মাজারে ও বাউলদের উপর হামলা
বিগত সময়ে সারাদেশে শতাধিক মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে মরদেহ কবর থেকে তুলে মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লা ও কালাইসহ বিভিন্ন গ্রামে একাধিক মাজারে হামলা ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালনকারীদের ওপর ‘তৌহিদী জনতা’র হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। ময়মনসিংহ ও ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাচীন ও স্থানীয় মাজারে ভাঙচুর, গোবর-মলমূত্র ছিটানো এবং চারটি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পদ ও মানুষদের নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সীমান্ত হত্যা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কমপক্ষে ১১০টি হামলায় ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত, ৪৯ জন আহত ও ১৮৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে। বিএসএফ কমপক্ষে ৩ হাজার ৫০৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে এবং নভেম্বরে বঙ্গোপসাগর থেকে ১৪৩ জেলেকে আটক করেছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিপি ও আরাকান আর্মির অন্তত ২৬ হামলায় ৩ জন নিহত, ১৯ জন আহত, ১০ গুলিবিদ্ধ ও ২৫০ গ্রেপ্তার হয়েছে। মাইন বিস্ফোরণে বিজিবি নায়েক আক্তার হোসেনের মৃত্যু হয়েছে এবং কক্সবাজারে ছেনুয়ারা বেগম আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিগত ১৭ মাসে নারী ও কন্যা শিশুর উপর সহিংসতা এবং নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে কমপক্ষে ২ হাজার ৬১৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ১৬ জন, ৫৫০ জন ১৮ বছরের কম। গণধর্ষণ হয়েছে ২৩ শতাংশ এবং ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে, ১১ জন আত্মহত্যা করেছেন। যৌন নিপীড়নের শিকার ৫০৪ জনের মধ্যে ২৭০ জন শিশু। একই সময়ে যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা ও এসিড হামলায় ৯৬৫ নারী নিহত ও আহত হয়েছেন। শিশুদের নির্যাতনের সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজার ৮০২, যাদের মধ্যে ৪৭৮ প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া, ১৭ মাসে ৩৪৯টি মামলা দায়ের করে ২৯ হাজার ৭৭২ জনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে, ৬৫ হাজারের বেশি অজ্ঞাতনামা আসামি এবং ৫৫ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার। শান্তিপূর্ণ সভা ও সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে অন্তত ৫৫টি কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, এতে ৫৪৮ জন আহত ও ৩৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। শ্রমিক নির্যাতনে ৫৩১টি ঘটনার ফলে ১৬৪ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৪৮ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড ও নিরাপত্তাহীনতায় আরও ২৫৮ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহকর্মী নির্যাতনেও নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে নারী, শিশু ও শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের ১৫টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গত ১৭ মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এইচআরএসএস।
সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, অ্যাডভোকটে মনিরুজ্জামান, এইচআরএসএস-এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদির।
মন্তব্য করুন