স্পোর্টস ডেস্ক 

দাতব্য কাজে তারকা অ্যাথলেটদের জার্সি, পরিধেয় কিংবা অটোগ্রাফ সম্বলিত বস্তু নিলামে তোলার রীতি বহু পুরোনো। সময়ের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোসহ অন্তত ১৫ ফুটবলারের সামগ্রী নিলামে তুললেন সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার জন টেরি। যার বিনিময়ে তিনি সাড়ে ৮ কোটি টাকারও (৬৯৫০০০ ডলার) বেশি অর্থ পকেটে পুরেছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য ব্যয় করা হবে ওই অর্থ।
আমেরিকান নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডিন অকশনস’ এটি পরিচালনা করেছে। যেখানে সর্বোচ্চ দাম উঠেছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির জার্সির। ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর চেলসি ও বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। চেলসির তৎকালীন তারকা টেরির সংগ্রহে ছিল সেই ম্যাচে পরিহিত মেসির জার্সিটি। নিলামে এর দাম উঠেছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ডলার বা ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।

কাছাকাছি সময়ে রোনালদো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে। ২০০৮ সালের ২৬ এপ্রিল চেলসি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয়েছিল। টেরির কাছে ছিল ওই ম্যাচে রোনালদোর পরা জার্সি। যা এবার নিলামে তোলার পর দাম ওঠে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০০ ডলার বা ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। একইভাবে আর্সেনালের হয়ে খেলার সময়কালে থিয়েরি অঁরির জার্সি ৯৮ হাজার ৮২০ ডলার এবং জুভেন্তাসের জার্সিতে খেলা জিয়ানলুইজি বুফনের জার্সির দাম ২২ হাজার ২৬৫ ডলার ওঠে।
নিলামের তালিকায় জন টেরির নিজের কয়েকটি জার্সিও ছিল, ইংল্যান্ড জাতীয় দল, চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলা সেসব পোশাকও বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া নিজের সময়কার তারকা সতীর্থ– ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, পাওলো মালদিনি, সেস ফ্যাব্রেগাস, পাউলো ফেরেইরা, অ্যাশলে কোল, জিয়ানফ্রাঙ্কো জোলা, স্যামুয়েল ইতো, লিওনার্দো বোনুচ্চি, রিও ফার্দিনান্দ, ক্লাউদ ম্যাকেলেলে এবং মার্সেল ডেসাইলি’র স্বাক্ষরিত জার্সিও সেখানে ছিল।

এর বাইরে ২০০৭ এফএ কাপ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রেপ্লিকা বিক্রি হয় ২৬ হাজার ৮৪০ ডলারে। এ ছাড়া ইংল্যান্ড, চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলার সময় অধিনায়কের আর্মব্যান্ড, একাধিক জোড়া ক্লিটস ও পায়ে পরার শিন গার্ডসও তোলা হয় নিলামে। সেখানে পাওয়া অর্থের অংশ জন টেরি ফাউন্ডেশনে ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন