রংপুর বিভাগে ১৫ মাসে খুনের শিকার ১৭০
‘গতকাল রোববার রংপুরের তারাগঞ্জে রহস্যজনকভাবে খুন হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী। কী কারণে নিরীহ এই দম্পতি খুন হয়েছেন তার কোনো হদিস মিলছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বদনাপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে দেলোয়ারা বেগম নামে ত্রিশ বছর বয়সী এক গৃহবধূর দুই টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়।
পৃথক স্থানে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় দেলোয়ারা বেগমের ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যার লাশও। আর গত ১৮ অক্টোবর রংপুরের পীরগঞ্জের ঘেগারতল এলাকায় আকলিমা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার কাছে দশ হাজার টাকা চেয়েছিল নাতি অনিক হাসান হৃদয়। সেই টাকা না দেওয়ায় তাকে গলা কেটে হত্যা করে অনিক।
চাঞ্চল্যকর এই তিনটি ঘটনাই শুধু নয়, পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মাসে রংপুর বিভাগের ১৫৮টি উপজেলার মধ্যে ৪৬টি উপজেলায় ১৭০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, জমা-জমি, আধিপত্য এবং পারিবারিক কলহের জের কিংবা চুরি ছিনতাই; এসব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ১৫ মাসে পঞ্চগড়ে ১৮টি, ঠাঁকুরগাওয়ে ১৮টি, লালমনিরহাটে ৫টি, রংপুরে ৫৬টি, কুড়িগ্রামে ৬টি, গাইবান্ধায় ৬৪টি এবং নীলফামারীতে ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, পাঁচ আগস্টের পর থেকে চলতি ডিসেম্বরের ৭ তারিখ পর্যন্ত শুধু রংপুর জেলায় খুনের মামলা ৫২টি, মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬টি থানায় খুনের মামলা হয়েছে ৪টি।
পুলিশ জানায়, গত ৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় ভ্যানচোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা রূপলাল দাস (৪০) ও মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের প্রদীপ দাসকে (৩৫)।
২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষের পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল ইসলাম নিহত হন।
নাগরিক কমিটির সদস্যরা বলছেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক থাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে অপরাধী চক্র। এ কারণেই কারণেই অপরাধ বাড়ছে। তবে সেই পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর সভাপতি ফখরুল আলম বেনজু জানান, সামাজিক বন্ধন ভেঙে যাওয়ায় গ্যাং কালচার সৃষ্টি হয়ে অপরাধের সংখ্যা বাড়েছে।
অপরাধের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যেমন দায় আছে তেমনি পরিবারও দায় কম নয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী গণমাধ্যমকে জানান, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনগুলোতে জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ায় শুরুর দিকে অপরাধের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এখন পুরো পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশের কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন