পরীক্ষামূলক
LIVE TV

দিপচরের বাসিন্দাদের খাল পারাপারে ড্রামের ভেলাই ভরসা

মরা ঘাঘট নদীর দ্বীপে একাধিক পরিবারের বসবাস। তাদের চলাচলের রাস্তা নেই। অন্যের জমির আইল দিয়ে ২০০ মিটার হেঁটে উঠতে হয় প্রধান সড়কে। মাঝখানে আবার বকশীর দহর খাল। এ খাল পারাপারে একমাত্র ভরসা ড্রামের ভেলা। সবমিলে ভোগান্তির শেষ নেই দ্বীপচরের বাসিন্দাদের। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর-পুরান লক্ষ্মীপুর এলাকার চিত্র এটি।

স্থানীয়রা জানান, বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর ঘেঁষে একটি গ্রামের নাম পুরান লক্ষ্মীপুর। একসময় এর পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছিল ঘাঘট নদী। গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় পরিণত হয় মরা নদীতে। এখন এটি বকশীর দহ নামে অনেকে চেনেন। বকশীর দহের ওপারে দ্বীপে বসবাস করে বেশকিছু পরিবার। তারা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে এলেও চলাচলের রাস্তা নেই। সেইসঙ্গে বকশীর দহর খাল পার হওয়া ছাড়া তাদের চলাচলের বিকল্প রাস্তা নেই। একটি ড্রামের ভেলা দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ খাল পারাপার হতে হয়। শুধু তাই নয়, এই ভেলায় ওপারে পৌঁছে জমির আইল দিয়ে ২০০ মিটার হেঁটে মূল সড়কে উঠতে হয়। এতে করে চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, এখানে রাস্তাসহ সেতু নির্মাণ করা হোক।

সৈয়দ আলী নামে এক বাসিন্দা বলেন, শুধু সেতু নয়, নেই রাস্তাঘাটও। ভেলায় ওপারে পৌঁছে অন্যের জমির আইল দিয়ে খানিকটা হেঁটে গিয়ে মূল সড়কে উঠতে হয়। এ পাশে সেতুসহ একটি রাস্তা নির্মাণের দাবি জানাই।

রবিউল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ প্রয়োজনীয় তাগিদে ওপারে যাওয়ার জন্য ড্রামের ভেলাই ভরসা। একটি সেতু ও রাস্তার জন্য যুগ যুগ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে কোনো সুফল পাইনি। এমন পরিস্থিতিতে

সেতু না থাকায় ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর-পুরান লক্ষ্মীপুর ঘাটে থাকায় দ্বীপের ছেলেমেয়েদের বিয়ে করাতে অনেকটা বেগ পেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঠিকঠাক হওয়া বিয়েও ভেঙে যায়।

শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে খাল পারাপারে নিজেদের টাকায় বানানো হয় বাঁশের সাঁকো বা ড্রামের ভেলা। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এই বকশীর দহর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জয়েনপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, বকশীর দহরের ওপারে শতাধিক হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। সেখানে শাকসবজি-ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। এসব ফসল এ পাড়ে নিয়ে আসা খুবই কষ্টসাধ্য। এতে করে কখনো কখনো উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই বকশীর দহের ওপর সেতু নির্মাণ জরুরি। পাশাপাশি রাস্তাও নির্মাণ করতে হবে।

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, ওই স্থানে দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, বকশীর দহর খালে একটি সেতুর প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে এলজিইডির রাস্তা না থাকায় সেতুর প্রস্তাবনা পাঠানো যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন