পরীক্ষামূলক
LIVE TV

একদিনেই ভিটা হারিয়েছে ৫৩ পরিবার, কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রাম-জনপদ

‎উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের প্রধান চারটি নদ-নদী দুধকুমার, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলায় নতুন করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন ও জলাবদ্ধতা। নদী তীরবর্তী মানুষদের মাঝে ফিরে এসেছে দুঃসহ জীবনযাত্রা ও আতঙ্ক।

‎ইতোমধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলি জমি। বহু এলাকার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে পানিতে। গ্রামীণ সড়কও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের।

‎‎এদিকে, রবিবার (৫ অক্টোবর) রাত থেকে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় দুধকুমার নদীর ভাঙনে একদিনেই বসতভিটা হারিয়েছে অন্তত ৫০টি পরিবার। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। একইভাবে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম এলাকায় নদীর ভাঙনে অন্তত ৩টি পরিবার বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। কয়েকশ ঘরবাড়ি, মসজিদ, স্কুল ও হাট-বাজার ভাঙনের মুখে পড়েছে।

‎‎স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি তারা। ফলে প্রতি বছরই তাদের ঘরবাড়ি, জমি ও আশ্রয় হারাতে হচ্ছে।

‎‎সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী জানান, একদিনেই দুধকুমারের ভাঙনে আমাদের গ্রামের ৫০টির মতো পরিবার বসতবাড়ি হারিয়েছে। এখনই যদি ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, পুরো গ্রামটাই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

‎‎একই এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় আমার দুই বিঘা জমির আমন ধান পানিতে ডুবে গেছে। পানি যদি দ্রুত না নামে, সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব আমরা।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে অন্তত ১০টি পয়েন্টে। এর মধ্যে সদর উপজেলার যাত্রাপুর, রাজারহাটের ছিনাই, উলিপুরের বেগমগঞ্জ ও নাগেশ্বরীর।

‎‎কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, রবিবার রাত থেকে দুধকুমার ও ধরলার বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী দুই দিন নদীর পানি আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

‎‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দাবি অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে ভাঙনে আরও অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।

‎‎প্রতিবছর একইভাবে নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রামের শত শত পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে। আশ্রয়হীন এসব মানুষ ঘর হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে এখন নদীতীর ঘেঁষে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন যেন নদীর সাথে তাদের এক অনন্ত লড়াই চলছে বেঁচে থাকার।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন