RCTV Logo ‎কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, দুধকুমারের নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিতে

ছবিঃ আরসিটিভি

‎দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন (১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর) জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র—চারটি প্রধান নদীর পানি প্রতিটি গেজ স্টেশনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এ সময় সব নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

‎পাউবো কুড়িগ্রামের নিয়ন্ত্রণকক্ষের প্রতিবেদন বলছে, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও কুড়িগ্রামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে দুধকুমারের নিম্নাঞ্চলে প্লাবন দেখা দিতে পারে।

‎গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়েও টানা বৃষ্টি হয়েছে। এসব বৃষ্টির পানি সীমান্ত পেরিয়ে কুড়িগ্রামের নদ-নদীতে চাপ সৃষ্টি করছে।

‎আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

‎‎কুড়িগ্রামের সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমারপাড় সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার চরের মানুষ ইতিমধ্যে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে গবাদি পশু ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

‎পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার পূর্বাভাস রয়েছে। কুড়িগ্রামে বিশেষ করে দুধকুমারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তবে অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমা অতিক্রম নাও করতে পারে। আশা করা হচ্ছে, দুই-তিন দিন পর পানি নেমে যেতে শুরু করবে।

‎‎কুড়িগ্রামে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদ উপচে পড়ে। এর ফলে জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৭-৮টি উপজেলার মানুষ ছোট-বড় বন্যার ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। চলতি মৌসুমে এখনো বড় ধরনের বন্যা না হলেও সামনের কয়েক দিনে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ চট্টগ্রামের

ঠাকুরগাঁওয়ে খ্রিস্টান যুবাদের নিয়ে শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ছাড়াল ৩ হাজার কোটি টাকা

শাকিবের ছবিতে অভিনয়ের কারণ জানালেন চঞ্চল

সাত কলেজে অনার্স-মাস্টার্স ফাইনালের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ

৮৫ বছরের অভিনেতা ফিরলেন ৩২ বছর বয়সী প্রেমিকার কাছে

একই দিনে ‘দুইবার’ মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান

শেষ বলের ছক্কায় রংপুরকে হারিয়ে বিপিএল কোয়ালিফায়ারে সিলেট

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ

হাদি হত্যার অধিকতর প্রতিবেদন দাখিল পেছালো আরও ৫ দিন

১০

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

১১

শিশুদের জন্য সেকেন্ডারি অ্যাকাউন্ট আনছে হোয়াটসঅ্যাপ

১২

আসন্ন রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

১৩

উপদেষ্টা পরিষদে নতুন ৪ থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন

১৪

বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ

১৫

আবারো গ্রেপ্তার ইভ্যালির রাসেল-শামীমা

১৬

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেইমার

১৭

যান্ত্রিক ত্রুটিতে অচল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিদ্যুৎ সংকটে কৃষি ও শিল্পে শঙ্কা ‎

১৮

ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে অক্ষয়ের গাড়িবহর

১৯

পাগল বা ভবঘুরেকে দেখলেই খুন করতো সাইকো সম্রাট

২০