ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা পিছিয়ে আগস্টের ২৮ তারিখ নির্ধারণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে। আদালত এবার ২৮ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশ তদন্ত সংস্থা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।
শাহবাগ থানার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পটভূমি:
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শাহবাগ থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও চার্জশিট:
গত ৩০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনজীবী সেলিম জাবেদ পুলিশের চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, তদন্ত সুষ্ঠুভাবে করা হয়নি। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে পুনরায় তদন্তের জন্য পাঠান।
আসামিদের তালিকা:
পুলিশের চার্জশিটে অভিযুক্ত ২১ জনের মধ্যে ছয়জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জালাল মিয়া, সুমন মিয়া, মোত্তাকিন সাকিন, আহসান উল্লাহ, ওয়াজিবুল আলম ও ফিরোজ কবির।
আরেকটি মামলা:
তোফাজ্জলের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেন। আদালত দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
নিহতের পরিচয়:
তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, তাকে হলের গেস্ট রুমে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া চলমান, এবং তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য করুন