লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃহস্পতিবার রাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও শুক্রবার সকালে কিছুটা কমেছে। তবে পানি কমার এই সাময়িক স্বস্তির মধ্যেও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
উজানের পাহাড়ি ঢল এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ গত ২৪ ঘণ্টায় অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, আবারও পানি বাড়লে তলিয়ে যেতে পারে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য উঠতি ফসল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় একই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় পানির স্তর ছিল বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে। এরপর বিকেল থেকে দ্রুত বাড়তে শুরু করে নদীর পানি। সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছে এবং রাত ৯টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যাতে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যায়।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে এবং দেশের অভ্যন্তরে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীর পানি কিছু কিছু স্থানে আবারও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে নদীর পানি দ্রুত ওঠানামা করায় তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে তাদের জমির ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পানি আবারও বৃদ্ধি পেলে কৃষি এবং জনজীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্তব্য করুন