আরসিটিভি ডেস্ক 

হত্যার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে নো অর্ডার দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার এ আদেশ দেন।
ফলে ওই দুই মামলাসহ মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে। তার কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এর আগে ১০ মামলায় হাইকোর্টে জামিনের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে ২ মার্চ একটি মামলায় এবং ১২ এপ্রিল অপর মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় ৩০ এপ্রিল রুল দিয়ে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে।
আদালতে আইভীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও এস এম সিদ্দিকুর রহমান শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন ঘিরে হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এই পাঁচ মামলায় গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট আইভীর জামিন মঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। পরে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।
এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল করে। গত ১০ মে লিভ টু আপিল খারিজ হলে পাঁচ মামলায় আইভীর জামিন বহাল থাকে।
পরে আরও পাঁচ মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানার হত্যা মামলা এবং একটি সদর থানার মামলা।
দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে চেম্বার আদালত সেই জামিন স্থগিত করেন। তবে ১০ মে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। ফলে দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায়ও আইভীর জামিন বহাল থাকে।
আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান বলেন, ১২ মামলায় জামিনাদেশ ও আপিল বিভাগের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে তিনি মুক্তি পেতে পারেন।
মন্তব্য করুন