আরসিটিভি ডেস্ক 

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম বেড়েছে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা না করার ইঙ্গিত দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ে পর্যালোচনায় রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.২১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৩৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯১.৫৪ ডলার।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয়। এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে তেহরান।
এদিকে, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারে তেহরান। বরং সংঘাত বন্ধে নিজেদের শর্তও তুলে ধরেছে দেশটি।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশ বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে এবং ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। এমনকি আলোচনার কারণেই ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থান বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের দামে।
বিনিয়োগ ব্যাংক টিডি সিকিউরিটিস জানিয়েছে, তেলের দামের এই ধাক্কা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক কঠোর নীতিতে যেতে বাধ্য করবে না। যদিও বাজারে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তবুও ফেড আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং দ্বিতীয় ধাপের প্রভাব সীমিত থাকলে, জ্বালানি খাতের এই ধাক্কাকে ফেড সাময়িক হিসেবে বিবেচনা করবে। ফলে ২০২৬ সালের পরবর্তী সময়ে সুদের হার কমানোর দিকেই ঝুঁকতে পারে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন