আরসিটিভি ডেস্ক 

রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহিন আলমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন, তবে আদালত পাঁচ দিন মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্র পক্ষের এপিপি মো. মাকসুদুর রহমান রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে বলেন, এটা নৃশংস পরিকল্পিত হত্যাকান্ড, আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।
শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান, হত্যাকাণ্ড নৃশংস ও পরিকল্পিত। আসামি ও ভিকটিম রুমমেট ছিলেন। হত্যার সময় ভিকটিম কাপড় ধুচ্ছিলেন, তখন আসামি ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে কোপ দেন।
তিনি জানান, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি বাসায় চাপাতি রেখে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেছেন। পরে ভিকটিমের শরীর বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
শাহরিন হোসেন আরও জানান, ভিকটিমের কিছু অংশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে দুই অংশ এখনো নিখোঁজ। বাকি অংশ উদ্ধার এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা বের করতে সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আদালতে আসামিকে হত্যার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “মারার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না, আমি সাধারণ মানুষ।” এছাড়া ভিকটিমের সঙ্গে মনোমালিন্য ও টাকা বিষয়ক ঝগড়া থাকলেও, হত্যার নৃশংসতা স্বীকার করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। ঢাকার মতিঝিলের কমলাপুর কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি চিলেকোঠায় দুই রুমের মেসে শাহিন আলমসহ ভাড়া থাকতেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ওবায়দুল্লাহর ছোট ভাই জলিলের সঙ্গে তার ফোনালাপের পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পল্টন থানাধীন আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশে কালো পলিথিনে মোড়ানো একটি বিচ্ছিন্ন পা, বায়তুল মোকারম মসজিদের পূর্ব গেটের পাশে দুটি হাত এবং শাহজাহানপুর থানাধীন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে আরেকটি বিচ্ছিন্ন পা পাওয়া যায়।
পরবর্তী তদন্তে পুলিশ ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ভাড়া মেস থেকে রক্তমাখা চাপাতি ও বাইসাইকেল উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং লাশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার কথা জানান।
ভুক্তভোগীর বাবা মো. ওবায়দুল্লাহর হামিদ মিঞা রোববার (১ মার্চ) মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মন্তব্য করুন