আরসিটিভি ডেস্ক 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলে উত্তরের জনপদ রংপুরে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি–এর দুর্গ ভেঙে দিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের মাধ্যমে কার্যত একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে দলটি।
শুক্রবার ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। ঘোষিত ফল অনুযায়ী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে সরাসরি জামায়াতের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয় পেয়েছে।
আসনভিত্তিক ফল
রংপুর–১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক):
জামায়াত প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর মোকাররম হোসেন সুজন।
রংপুর–২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ):
জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
রংপুর–৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন):
জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমান বেলাল বড় ব্যবধানে জয় পান। এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তৃতীয় অবস্থানে থাকেন।
রংপুর–৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা):
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জয়ী হন।
রংপুর–৫ (মিঠাপুকুর):
জামায়াতের জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বিজয়ী।
রংপুর–৬ (পীরগঞ্জ):
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মো. নুরুল আমিন স্বল্প ব্যবধানে জয় পান।
সামগ্রিক চিত্র
জেলার ৬টি আসনে প্রায় ২৬ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোটগ্রহণ হয় ৮৭৩টি কেন্দ্রে। মোট ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাঁচটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের জয় এবং একটি আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ে রংপুরে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
জাতীয় পার্টি কোনো আসন না পাওয়ায় আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। অনেকের মতে, ঐতিহ্যগতভাবে লাঙ্গল প্রতীকের প্রতি আবেগ থেকে সরে এসে ভোটাররা এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে।
তবে বিশ্লেষকদের সতর্কতা—উন্নয়ন বৈষম্য দূর না হলে তিস্তা অববাহিকার কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ আবারও পিছিয়ে পড়তে পারে।
এদিকে ভোটের দিন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের জনসমক্ষে আসেননি। তার বাসভবনের সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
সব মিলিয়ে রংপুরের নির্বাচনী ফল উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন