বিনোদন ডেস্ক

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটকে রেখে ‘হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা’ মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিন জামিন পেয়েই বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ করেন বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা।
তার অভিযোগ, মঙ্গলবার জামিন পেয়েই তাকে ‘মারধর’ করেন নোবেল। জামিন বাতিলের বিষয়ে কী করা যায়, সেই পরামর্শ করতে মা ও ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে এসেছেন।
অনন্যা বলেন, ‘সে (নোবেল) হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে জামিন নিয়েছে। জামিনের পর বাসায় নিয়ে ফের আমাকে মারধর শুরু করেছে। আমি কেন তার বিরুদ্ধে মামলা দিলাম, এটা বলে মারধর করেছে।’
অনন্যা তার বাঁ হাত তুলে ধরে অনেকগুলো কাটা দাগ দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে মানুষটা (নোবেল) যে রকম, আর মিডিয়ার বাইরে খুবই আলাদা।
আমি ওকে (নোবেল) খুব ভালোভাবে চিনি; ও নেশাখোর, কিন্তু নিজেকে ভিকটিম দাবি করে। পরিস্থিতির শিকার দাবি করে। তবে তার বাইরের জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা।’
জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন অনন্যা।
আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনন্যাকে ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নিয়ে ‘আত্মসাৎ’ করেন নোবেল। বাদীকে আটকে রেখে ‘হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি’ তৈরির চেষ্টা করেন। অন্য আসামিরা তাকে সহযোগিতা করেন।
অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়ে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
ওই মামলায় সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। অনন্যাও সেদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তাদের মধ্যে আপসের আলোচনা হয়। বিষয়টি আদালতকে জানানোও হয়।
বিচারক বাদীর কাছে জানতে চান, আপসের কথা হয়েছে কি না। অনন্যা বলেন, হ্যাঁ। এরপর বিচারক দুজনের কাছে জানতে চান তারা আপস চান কি না। জবাবে দুজনই হ্যাঁ বলেন।
নোবেলের আইনজীবী মো. রানা শেখ আপসের কথা তুলে ধরে জামিন আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত থেকে এক হাজার টাকা মুচলেকায় ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ে করবে এমন শর্তে বাদী সেদিন নোবেলের জামিনের বিরোধিতা করেননি। আপসের শর্তে আসামি জামিন পান। কিন্তু বাদী নোবেলের সাথে তার বাসায় গেলে সারারাত নোবেল তাকে মারধর করেন। মারধরে তিনি বেহুঁশ হয়ে যান। তারপর মেডিক্যালে নিয়ে যান। এখন বাদী নোবেলের জামিন বাতিলের আবেদন করবেন।’
মন্তব্য করুন