আরসিটিভি ডেস্ক 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে সবার আগে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের জলবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর লালবাগ বালুর মাঠে আয়োজিত ঢাকা-৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-৭ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ।
তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি মানুষের ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। যে কর্মসূচি শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল বিএনপি, যাদের দেশ গড়ার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপি একমাত্র দল যাদের কর্মসূচি আছে দেশকে পুনর্গঠন করার। বিএনপি একমাত্র দল যাদের সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণ যতবার বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, ততবারই বিএনপি চেষ্টা করেছে সর্বশক্তি দিয়ে দেশকে গড়ে তুলতে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে আপনারা ভোট দিয়ে দেশ গঠনের সুযোগ দিন। বিএনপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সব নাগরিক দিন-রাত নিরাপদে চলাফেরা এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।
তিনি বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা জরুরি। এ লক্ষ্যে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বিএনপির রয়েছে। একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গ্রামের মানুষ এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতনতা বাড়বে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন সম্পর্কে সাবইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিন্তু একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিভিন্নভাবে তাদের লোকজন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বায়বীয়। বিএনপি জনগণের সামনে সেই প্রতিশ্রুতি করতে চায়, যা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, যারা গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করে, তাদের বিকাশ নম্বর চায়, তাদের এনআইডি নম্বর চায়, এই সব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়, আত্মত্যাগের বিনিময় যেই ভোটের অধিকারকে আজকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, সেই অধিকার আবার হারিয়ে যাবে। সেই অধিকার আবার ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আটকে যাবে।
তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচনী জনসভায় আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে যে, যেকোনো মূল্যে আমরা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করব। আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।
বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণদের কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কাউকে বাপ-দাদার ভিটেমাটি বিক্রি করতে না হয়।
জনসভায় তিনি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় গুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী চালুর ঘোষণা দেন।
মন্তব্য করুন