স্পোর্টস ডেস্ক 

হতে চেয়েছিলেন পাইলট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলেন ক্রিকেটার। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের অধিনায়কের ভূমিকা পালন করছেন। পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জন্ম, স্বপ্নপূরণে এয়ারফোর্স কলেজে ভর্তিও হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু চোখের পরীক্ষায় ফেল করায় স্বপ্নের অপমৃত্যু। অগত্যা ক্রিকেট শুরু। ২০০২ সালে পাকিস্তান থেকে বাবা-মা চলে এসেছিলেন জিম্বাবুয়েতে। সেখান থেকেই উত্থান সিকান্দার রাজার।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক, ৩৭ বছর বয়সে ২০২৩ সালে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত। আইপিএল, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন, ৪০ ছুঁইছুঁই সিকান্দারের সম্ভবত এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ইতিমধ্যেই আইসিসি-র সিডিংস-কে ভুল প্রমাণ করে তার টিম সুপার এইটে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ২৬ বলে ৪৫ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজে়র বিরুদ্ধে সুপার এইটে তার দল হেরেছে, সেই ম্যাচে আঙুলে চোটও লেগেছিল তার। কিন্তু সে জন্য ভারত ম্যাচে খেলবেন না, এমন নয়। তার সতীর্থ বার্ল এদিন চিপকে বসে বলছিলেন, ‘সিকান্দার পুরো দলের অনুপ্রেরণা। সে ভারতের বিপক্ষে নামবে না তা কখনও হয়? ও খেলছে।’
রমজান মাসে নিয়ম করে রোজা পালন করছেন সিকান্দার। কীভাবে রোজা রেখেও ম্যাচে এত এনার্জি পাওয়া সম্ভব? মাত্র কয়েকদিন আগে সিকান্দার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘উপোস করলে অবশ্যই এনার্জি পাওয়া যায়। এ কথা ঠিক, অনেক সময়ে ব্যাপারটা কঠিন হতে পারে, কিন্তু উপবাসে থাকলে আসলে অনেকটা শক্তি পাওয়া যায়।’
এই বিশ্বকাপে পরপর অস্ট্রেলিয়া আর শ্রীলঙ্কাকে হারানোটাকে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া বড় চমক হিসেবে দেখতে পারে, কিন্তু এর পিছনে আছে নিখুঁত পরিকল্পনা আর প্রস্তুতি। মনে রাখতে হবে, জিম্বাবুয়ে বোলিং কোচের নাম কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ, যিনি সিকান্দারের প্রধান পরামর্শদাতা। বিশ্বকাপের প্রায় দিন দশেক আগে থেকে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় পৌঁছে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ক্যাম্প করেছিল জিম্বাবুয়ে।
কারণ গ্রুপ লিগের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় পড়েছিল। সিকান্দার বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জিম্বাবুয়ে কিন্তু সহযোগী দেশ নয়। সিকান্দার রাজা বলেন, ‘আমরা কিন্তু টেস্ট প্লেয়িং নেশন। মাঝে আমাদের ক্রিকেটের খুব খারাপ অবস্থা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এখন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। এই বিশ্বকাপ আমাদের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে।’
মন্তব্য করুন