বিনোদন ডেস্ক 

ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান দীর্ঘ আড়াই দশকের ক্যারিয়ারে নিজেকে নিয়ে গেছেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী উচ্চতায়। তার সিনেমা মানেই প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের আমেজ। কিন্তু সাফল্যের এই জোয়ারের মাঝেও এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতা শূন্যই রয়ে গেল এই সুপারস্টারের। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানা গেছে, শাকিব খান অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘প্রিয়তমা’ পাঁচটি বিভাগে পুরস্কৃত হলেও, শ্রেষ্ঠ অভিনেতার তালিকায় নেই তার নাম। ফলে পঞ্চম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মুকুটটি এবার অধরাই রয়ে গেল তার।
হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি গত বছর ব্যবসায়িক সাফল্যের তুঙ্গে ছিল। জাতীয় পুরস্কারের আসরেও সিনেমাটি শ্রেষ্ঠ গায়ক, শ্রেষ্ঠ গীতিকার, শ্রেষ্ঠ সুরকার, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার ও শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান—এই পাঁচটি বিভাগে সম্মাননা কুড়িয়েছে। ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল, এই সিনেমার জন্যই হয়তো পঞ্চমবারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার ঘরে তুলবেন শাকিব। এর আগে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘খোদার পরে মা’, ‘আরও ভালোবাসবো তোমায়’ ও ‘সত্তা’ সিনেমার জন্য চারবার এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি।
১৯৯৯ সালে ‘অনন্ত ভালোবাসা’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা শাকিবের পথচলা শুরুতে মসৃণ ছিল না। তবে ২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। এরপর অপু বিশ্বাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে টানা ৯ বছর ইন্ডাস্ট্রি শাসন করেছেন। ক্যারিয়ারের গ্রাফের মতোই তার পারিশ্রমিকের গ্রাফও অবিশ্বাস্য। ক্যারিয়ারের শুরুতে ১ লাখ টাকার কম পারিশ্রমিক নেওয়া শাকিব ২০০৮ সালেই ছবিপ্রতি ৪০ লাখ টাকা নেওয়া শুরু করেন। আর ‘প্রিয়তমা’র আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’ ও ‘দরদ’-এর মতো সিনেমায় দফায় দফায় নিজের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুরস্কার না পেলেও বক্স অফিস ও দর্শকের হৃদয়ে যে তিনি এখনও ‘নাম্বার ওয়ান’, তা তার বর্তমান ব্যস্ততা ও পারিশ্রমিকের অঙ্কই বলে দেয়।
মন্তব্য করুন