আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ভূমধ্য সাগরে নৌকা ডুবে অর্ধশত শরণার্থী নিহত হয়েছে। রোববার মাল্টার একটি পত্রিকা প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে।
টাইমস অফ মাল্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় জীবিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন- গত শুক্রবার তিউনিশিয়া থেকে যাত্রা করে তাদের নৌকাটি। শনিবার মধ্যরাতে এটি ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়।
এর পর থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সাগরে ভেসে ছিলেন। মাল্টাগামী একটি কার্গোজাহাজ তাকে উদ্ধার করে মাল্টায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, একমাত্র তিনি ছাড়া নৌকাটির ৫০ জন আরোহীর সবাই সাগরে ডুবে মারা গেছেন।
মাল্টার সশস্ত্র বাহিনী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, গত শুক্রবার তিউনিসিয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি পণ্যবাহী জাহাজ সমুদ্র থেকে একজনকে উদ্ধার করে এবং পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মাল্টায় নিয়ে আসে।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, একজন জীবিত ব্যক্তিকে মাল্টার পানিসীমায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে এভাবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসতে গিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার শরণার্থী পানিতে ডুবে মারা যায়।
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে, যার মধ্যে তিউনিসিয়া থেকে ছেড়ে আসা কমপক্ষে তিনটি নৌকা রয়েছে।

অন্যদিকে, ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বাসিলানে ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রুসহ একটি ফেরি ডুবে গেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে ঘটা এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ৪৩ জন।
গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখান থেকে জীবিত অবস্থায় এ পর্যন্ত ১৩৮ জনকে উদ্ধার করেছেন কোস্টগার্ড বাহিনীর ডুবুরিরা।
বাসিলানের মেয়র আরসিনা লাজা কাথিং নানোহ এবং ফিলিপাইন কোস্টগার্ড বাহিনীর বাসিলান শাখার বরাতে জানা গেছে এসব তথ্য।
প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোরের দিকে বাসিলানের জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে পার্শ্ববর্তী মিন্দানাও প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘ত্রিশা কেরস্টিন-৩’ নামের সেই ফেরিটি, কিন্তু যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।
ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল— তা এখনও জানা যায়নি। কোস্টগার্ড ও দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপতত তারা ডুবে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ১১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনা বিরল ব্যাপার নয়। এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ ফিলিপাইনে একটি ফেরিতে আগুন লেগে ৩০ জন নিহত হয়েছিল।
মন্তব্য করুন