আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১০ আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে বিধ্বস্ত হওয়া মৎস্য নজরদারি বিমানটি সম্প্রতি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিধ্বস্ত হয়। দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট (আইএটি) পরিচালিত এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের টার্বোপ্রপ বিমানটির সঙ্গে গত শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের আকাশে বিমান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই সময়ে বিমানে মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে সাতজন ক্রু সদস্য এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। বিমানটি ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও মৎস্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চার্টারে মৎস্যসম্পদ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। যাত্রীরা সবাই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন।
দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান এক ভিডিও বার্তায় জানান, শুক্রবার ভোরে নবম ও দশম মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। পৃথক এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এখন পর্যন্ত সব মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।
এর আগে উদ্ধারকারীরা মারোস অঞ্চলের বুলুসারাউং পর্বতের আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। অঞ্চলটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি (কেএনকেটি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উদ্ধার করা ব্ল্যাক বক্স পরীক্ষা করা হচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান চলতি সপ্তাহে স্থানীয় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ইন্দোনেশিয়ায় এটিআর ৪২ মডেলের বিমানের প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে ২০১৫ সালে পাপুয়া অঞ্চলে ট্রিগানা এয়ার সার্ভিসের একটি এটিআর ৩২-৩০০ বিমান পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়ে ৫৪ জন নিহত হন। এছাড়া ২০২১ সালে শ্রীবিজয়া এয়ার পরিচালিত একটি বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমান জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ৬২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
মন্তব্য করুন