স্পোর্টস ডেস্ক 

২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে বিতর্কে জড়ান দলটির অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তৃতীয় ম্যাচের আগের রাতে একটি নাইটক্লাবে মদ্যপ অবস্থায় স্থানীয় এক বাউন্সারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
এ ঘটনায় তাকে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয় এবং মাঠের বাইরের আচরণের জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেয় ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তবুও অধিনায়কত্ব বজায় রাখতে পারায় নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ মনে করছেন ব্রুক।
বর্তমানে বিশ্বকাপের ঠিক আগে সীমিত সংস্করণের সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে ইংল্যান্ড দল। সেখানেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিউজিল্যান্ডে ঘটে যাওয়া সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় সরাসরি স্বীকার করেন ব্রুক।
তিনি বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেমন, তেমনি একজন অধিনায়ক হিসেবেও এটি ছিল বড় ভুল এবং সম্পূর্ণ অপেশাদার আচরণ। সামনে থেকে উদাহরণ তৈরি করার দায়িত্ব তার ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।
নিজের ভুল মেনে নিয়ে সতীর্থ, সমর্থক এবং ইসিবির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান ইংলিশ অধিনায়ক। ব্রুক জানান, ঘটনার পর তিনি অনেক ভেবেছেন এবং বুঝেছেন যে তার আচরণ ছিল অনুচিত। দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে যারা দলকে সমর্থন করতে আসেন, তাদের প্রতিও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও আশ্বাস দেন।
ঘটনার সময় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচের প্রস্তুতিতে ছিল ইংল্যান্ড। আগের রাতে ব্রুকসহ কয়েকজন খেলোয়াড় বাইরে পানাহার করতে গিয়েছিলেন। অ্যাশেজ শুরুর তিন সপ্তাহ আগে সেটিই ছিল ইংল্যান্ডের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সে রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ব্রুক জানান, তিনি একাই একটি নাইটক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে একজন বাউন্সার তাকে আঘাত করে। তিনি বলেন, পুরোপুরি মাতাল না হলেও এক গ্লাস বেশি পান করেছিলেন এবং শুরু থেকেই তার মনোভাব সঠিক ছিল না।
ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছিল, অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন ব্রুক। তবে সেটি না হওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করেন তিনি। ব্রুক জানান, তিনি কখনো স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা ভাবেননি, তবে কর্তৃপক্ষ যদি তাকে সরিয়েও দিত, তা মেনে নিতেন—শর্ত শুধু একটাই, তিনি যেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারেন। দল ও অধিনায়ক হিসেবে নিজের আচরণ যে গ্রহণযোগ্য নয়, তা তিনি আবারও স্বীকার করেন।
২০১৮ সালে নাইটক্লাব কাণ্ডে জড়ানো সাবেক ইংল্যান্ড টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার কথাও জানান ব্রুক। তিনি বলেন, স্টোকস তার কাজে সন্তুষ্ট না হলেও পরিস্থিতি বুঝতে ও সামনে এগোতে সহায়তা করেছেন।
মদ্যপান সংস্কৃতি নিয়ে ব্রুক বলেন, দলের মধ্যে বাধ্যবাধকতা নেই—প্রত্যেকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেয়। শুধু মদ্যপান নয়, সফরে গলফ খেলা, ক্যাফেতে যাওয়া ও কফি খাওয়ার মতো কর্মকাণ্ডও করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। সফর চলাকালে ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য মধ্যরাতের পর বাইরে না থাকার নিয়ম জারি করা হয়েছে। তবে ব্রুক মনে করেন, এটি দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং এতে দলের পারফরম্যান্স ও জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।
মন্তব্য করুন