RCTV Logo বেরোবি প্রতিনিধি
১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১:২৮ অপরাহ্ন

বেরোবির ৮ হাজার শিক্ষার্থীর ভরসা মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স

ছবিঃ আরসিটিভি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২০৪ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স। এতে অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাই।

অভিযোগ রয়েছে, একজন অসুস্থ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময়ের মধ্যে অন্য কেউ অসুস্থ হলে বিপদের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের যেতে হয় প্রায় এক ঘণ্টা দূরত্বে অবস্থিত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

মেডিকেল সেন্টার সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যেতে হয়। গত তিন দিনে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।

এদিকে পরিবহন পুল সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ক্রুটিজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স। ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ার আগে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হতো পুরোনোটিই।

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা জীবনরক্ষাকারী জরুরি সেবা। কয়েকদিন আগে আমার বড় ভাই অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করি কিন্তু পাইনি। পরে জানতে পারি অ্যাম্বুলেন্সটি অন্য এক অসুস্থ শিক্ষার্থীকে নিয়ে রংপুর মেডিকেলে গেছে।

মির্জা সুরাইয়া আফিয়া সূচী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেলগুলো দূরে হওয়ায় যেতে সময় লাগে। তাই অ্যাম্বুলেন্সে অন্তত একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকা প্রয়োজন। অনেক সময় মেডিকেলে পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে আর এতে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতার কারণে একই সময়ে একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে অনেককে বাইরে থেকে গাড়ি ভাড়া করতে হয়।

অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার বলেন, অনেক সময় একই সময়ে দুই থেকে তিনজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিতে হয়। আবার একজনকে নিয়ে যাওয়ার পথে আরেকজন রোগীর ফোন এলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. এ. এম. এম. শাহরিয়ার বলেন, একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এত শিক্ষার্থীর প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। আরও অ্যাম্বুলেন্স ও জনবল যোগ হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি গত  প্রশাসন সেটিকে অকেজো ঘোষণা করেছে। তবে বিষয়টি ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। ইউজিসির অনুমোদন পাওয়া গেলে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৮ জেলায় ডিজিটাল জামিননামা উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা

ঠাকুরগাঁও টাংগন নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

নীলফামারীতে ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রইলেন ২৭ প্রার্থী 

বড় ব্যবধানে মোনাকোকে হারিয়ে জয় তুলে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ

আজ প্রতীক নিয়ে কাল মাঠের লড়াইয়ে নামবেন প্রার্থীরা

আজ ২১ জানুয়ারি, দিনটি কেমন যাবে আপনার?

নামাজের সময়সূচি – ২১ জানুয়ারি ২০২৬

টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ চট্টগ্রামের

ঠাকুরগাঁওয়ে খ্রিস্টান যুবাদের নিয়ে শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ছাড়াল ৩ হাজার কোটি টাকা

১০

শাকিবের ছবিতে অভিনয়ের কারণ জানালেন চঞ্চল

১১

সাত কলেজে অনার্স-মাস্টার্স ফাইনালের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ

১২

৮৫ বছরের অভিনেতা ফিরলেন ৩২ বছর বয়সী প্রেমিকার কাছে

১৩

একই দিনে ‘দুইবার’ মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান

১৪

শেষ বলের ছক্কায় রংপুরকে হারিয়ে বিপিএল কোয়ালিফায়ারে সিলেট

১৫

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ

১৬

হাদি হত্যার অধিকতর প্রতিবেদন দাখিল পেছালো আরও ৫ দিন

১৭

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

১৮

শিশুদের জন্য সেকেন্ডারি অ্যাকাউন্ট আনছে হোয়াটসঅ্যাপ

১৯

আসন্ন রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

২০