ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র
আগামী সোমবার, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউসে বিজয়ীর বেশে ফিরবেন।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শুরু হয় ২০ জানুয়ারি। তবে এটি রবিবার পড়লে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন একদিন পেছানো হয়। এবারের শপথ অনুষ্ঠান হবে ক্যাপিটলের পশ্চিম লনে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ট্রাম্পকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
শপথ অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এই ভাষণে তার নতুন মেয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হবে। তার প্রথম উদ্বোধনী ভাষণ, ‘আমেরিকান কারনেজ’ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। এবারও একটি সাহসী ও শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা, যেমন—ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস এবং মার্ক জাকারবার্গ। এছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বারাক ওবামাও উপস্থিত থাকবেন।
তবে এবারের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক কূটনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের মতো বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ২২০,০০০ টিকিট বিতরণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল মলে বসানো বড় স্ক্রিনে বাকিরা সরাসরি অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন।
শপথ গ্রহণের পর, ট্রাম্প একটি জমকালো প্যারেডের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে যাত্রা করবেন।
ট্রাম্পের এবারের শপথ অনুষ্ঠানে তারকাদের উপস্থিতি নজরকাড়া। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ক্যারি আন্ডারউড ‘আমেরিকা দ্য বিউটিফুল’ পরিবেশন করবেন। এছাড়া ভিলেজ পিপল, কিড রক এবং বিলি রে সাইরাস রোববারের প্রাক-উদ্বোধনী র্যালিতে পারফর্ম করবেন।
দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেই ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে:
- তেল উত্তোলন বৃদ্ধি
- অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি
- ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলায় অভিযুক্ত সমর্থকদের ক্ষমা
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে একটি গুরুতর আবহাওয়াজনিত সমস্যা হতে পারে। ‘পোলার ভর্টেক্স’ নামে পরিচিত ঠাণ্ডা বাতাস অনুষ্ঠান ব্যাহত করতে পারে। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে অনুষ্ঠানটি অন্দর মহলে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শপথ গ্রহণ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি কেমন হবে, তা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন