পরীক্ষামূলক
LIVE TV

বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজারের বিগত ১৬ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো আলোচিত কিছু অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। বিশেষ করে বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএসইসির তথ্যমতে, টেরা রিসোর্সেস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়া ইউ আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আরও রয়েছেন:

  • পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ইয়াওয়ার সাঈদ
  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য মো. শফিকুর রহমান
  • সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জিশান হায়দার
  • বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম

কমিটিকে ১২টি বিষয় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম:

  1. বেক্সিমকো গ্রিন-সুকুক বন্ডের অনিয়ম
  2. আইএফআইসি গ্যারান্টিড শেরপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড ইস্যু
  3. চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগের অনুমোদন ও শেয়ার বরাদ্দ
  4. বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও অনুমোদন সংক্রান্ত তদন্ত
  5. শেয়ার কারসাজি ও ওটিসি থেকে এসএমই প্লাটফর্মে স্থানান্তর সংক্রান্ত অনিয়ম
  6. বেক্সিমকোর ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড সংক্রান্ত অনিয়ম

২০২১ সালে বেক্সিমকো তাদের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ও টেক্সটাইল বিভাগের সম্প্রসারণের জন্য ৩,০০০ কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছাড়ে। এটি দেশের প্রথম ইসলামিক বন্ড হিসেবে চালু হলেও, বিনিয়োগের ধরন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, কমিটির এক সদস্যের প্রতিষ্ঠান সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকারী, যা স্বচ্ছ তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে, তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বিলম্ব হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর বিএসইসি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। বিশেষ করে দুই সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন ও শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের আমলে দুর্বল কোম্পানির আইপিও অনুমোদন এবং শেয়ার কারসাজির অভিযোগ উঠেছিল।

বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছেন, “গত ১০-১৫ বছরে পুঁজিবাজারে যেসব অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে তদন্ত করা হবে।” কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন জমা নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা ও সময়মতো প্রতিবেদন জমা দেওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের মতো আলোচিত ইস্যুর তদন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন