গাইবান্ধা প্রতিনিধি 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হাঁট ভরতখালী এলাকায় অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ ও ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে তেল বিতরণ অভিযোগে এক জ্বালানি ডিপোর মালিককে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার ( ৯ এপ্রিল) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬-এর ৪(খ)
ধারায় ডিপো মালিক আবুল কালাম আজাদ অলককে ২৭/২০২৬ নং মামলায় ১ হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর।
অভিযান চলাকালে ওই ডিপো থেকে প্রায় ৫শ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত তেল বিক্রি করে তার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা থানা পুলিশের এসআই ও এ মামলার প্রসিকিউটর জিয়াউর রহমান, ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুর রহমানসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এটি ওই ডিপোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান। এর আগে গত ২৯ মার্চ অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে একই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। সে সময় মেসার্স আবুল কালাম আজাদ ট্রেডার্স থেকে ১২শ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অবৈধভাবে তেল মজুদ ও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণমানুষকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। পাম্পে তেল নিতে আসা রাকিবুলহাসান বলেন, এভাবে সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের বদনাম হচ্ছে। এরা তেল কোথা থেকে পায়, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুর রহমান বলেন, আমি জানি না
যে তিনি তেল নিয়ে এসেছেন। আমাকে এ বিষয়ে ডিপো মালিক কিছু জানান নি।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. আশরাফুল কবীর বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির পেট্রোলিয়ামের লাইসেন্স নেই। ভ্রাম্যমান আদালতে আবুল কালাম আজাদকে ৭দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও ট্যাগ অফিসারের তদারকিতে ৫শ লিটার জব্দকৃত তেল ভোক্তাদের মাঝে বিতরণ করে আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, একই দিনে অভিযান শেষে ফেরার পথে পবন তাইড় গ্রামে আব্দুল করীম নামে এক মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়৷
মন্তব্য করুন