কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে সেমাই তৈরির ব্যস্ততা। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের পীরমামুদ গ্রামে হাতে তৈরি লাচ্ছা সেমাই এখন ছড়াচ্ছে সুস্বাদ আর সম্ভাবনার গল্প।
সানরাইজ কঞ্জুমার্স প্রডাক্ট নামে স্থানীয় উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে এই লাচ্ছা সেমাই। কম দাম আর ভালো মানের কারণে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে এর চাহিদা বেড়েছে আশপাশের জেলা গুলোতেও। আসন্ন ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে প্রতিদিন এই সেমাই যাচ্ছে কুড়িগ্রাম ছাড়াও লালমনিরহাট ও রংপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামে। এই উদ্যোগে কাজ করছেন স্থানীয় অনেক নারী ও পুরুষ শ্রমিক। ফলে গ্রামেই তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। গ্রামের এই ছোট উদ্যোগই এখন বড় সম্ভাবনার গল্প বলছে। মান ধরে রেখে উৎপাদন বাড়ানো গেলে এই লাচ্ছা সেমাই ভবিষ্যতে আরও বড় বাজার তৈরি করতে পারে এমনটাই মনে করছেন উদ্যোক্তা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, হাবিবুরের লাচ্ছা সেমাই দামে কম হলেও মান সম্মত ও সুস্বাদু।
লাচ্ছা তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ফারুক মিয়া বলেন, বাজারের চেয়ে কম মূল্যে লাচ্ছা সরবরাহ হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান বলেন, লাচ্ছা এবার নিয়ে আমার তিন বছর। গত বছর লাচ্ছা ব্যাপক সেলস দিয়েছি। আশা করছি এবারেও ভালো হবে। সর্বপরী এই কাজে নিয়োজিত অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় আমি নিজেকে স্বার্থক মনে করি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরী কার্যালয় কুড়িগ্রাম এর বিসিক কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হাবিবুর রহমান প্রথমে ছোট একটি চাকুরি করতেন। পরবর্তিতে তিনি চাকুরি ছেড়ে ক্ষুদ্র পরিসরে চানাচুর উৎপাদন এবং বাজারজাত করনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্তমানে তার হাতে তৈরি লাচ্ছা সেমাইয়ে ব্যাপক সারা মিলছে, নিঃসন্দেহে এটি ভালো সংবাদ।
মন্তব্য করুন