স্পোর্টস ডেস্ক 

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে মাঠ কিংবা গ্যালারি রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পেওনাতো মিনেইরো ফাইনালের ঘটনা সবকিছু ছাড়িয়ে গেল। খেলোয়াড়রা একে অপরকে কিল-ঘুষি-লাথি মারলেন মিনিটখানেক ধরে। যুদ্ধাংদেহী পরিবেশ কিছুটা শান্ত হওয়ার পর রেফারি ২৩ খেলোয়াড়কে দেখালেন লাল কার্ড, যা বিশ্বরেকর্ড।
ক্রুজেইরো ও অ্যাতলেতিকো মিনেইরোর শিরোপার লড়াই তখন শেষের দিকে। ক্রুজেইরো এগিয়ে ১-০ গোলে। ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার ৩০ সেকেন্ড আগে ক্রুজেইরোর স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান ও অ্যাতলেতিকো গোলকিপার এভারসনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এভারসন একটু বেশিই সহিংস ছিলেন। ক্রিস্টিয়ানকে টেনে মাটিতে ফেলে তার বুকে চড়ে বসে ক্ষোভ ঝারতে থাকেন।
রেফারি এসে সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হুট করে পেছন থেকে এভারসনকে ধাক্কা দেন ক্রুজেইরোর এক খেলোয়াড়, গোলপোস্টে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান অ্যাতলেতিকো কিপার। তারপরই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। দুই দলের খেলোয়াড়রা যে যাকে পেরেছেন, কিল-ঘুষি-লাথি মেরেছেন। মাঠে ঢুকে পড়েন বেঞ্চের খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরাও। তারাও জড়িয়ে পড়েন মারামারিতে। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও সামরিক পুলিশের হস্তক্ষেপে মাঠে শান্তি ফেরে।
ম্যাচ বন্ধ রাখা হয় প্রায় দশ মিনিট। কিছুক্ষণ পর ফের মাঠে নামে দুই দলের খেলোয়াড়রা। তখনো রেফারি কাউকে বুকিং করেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মিডিয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্রাজিলের সাবেক তারকা হাল্কসহ অ্যাতলেতিকোর ১১ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। আর ক্রুজেইরোর ১২ খেলোয়াড় পেয়েছেন লাল কার্ড। মোট ২৩ খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন, ১৯৫৪ সালে ২২ লাল কার্ডের রেকর্ড ভেঙে গেছে।
মন্তব্য করুন