স্পোর্টস ডেস্ক 

রিয়াল মাদ্রিদের পায়ের নিচের মাটি আরও সরে গেল। গতকাল (সোমবার) বার্নাব্যুতে মার্তিন সাত্রিয়ানোর প্রথমার্ধের স্ট্রাইকে ১-০ গোলে তারা হেরেছে গেতাফের কাছে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে লা লিগার শিরোপার দৌড়ে খানিকটা পিছিয়ে পড়ল মাদ্রিদ ক্লাব।
প্রথমার্ধের বিরতির কিছুক্ষণ আগে ভলিতে জাল কাঁপান সাত্রিয়ানো। আগের সপ্তাহে ওসাসুনার কাছে হারা রিয়াল দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও ব্রেকথ্রু পায়নি। স্টপেজ টাইমে তাদের বদলি খেলোয়াড় ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো রেফারিকে গালি দিয়ে লাল কার্ড দেখেন। পরে গেতাফের আদ্রিয়ান লিসো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে দুই দল ম্যাচ শেষ করে ১০ জন নিয়ে।
এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়ালের পয়েন্ট ব্যবধান হলো চার। ২৬ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট তাদের। ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে বার্সেলোনা।
বাঁ হাঁটুর চোট নিয়ে কিলিয়ান এমবাপেকে সাইডলাইনে রেখে রিয়ালের শুরুটা ভালো হয়েছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। ১৩তম মিনিটে সেবাস্তিয়ান বোসেলির ভুলে হাফওয়ে লাইন থেকে বল পান ব্রাজিলিয়ান। তারপর ঠিক বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার নিচু শট গেতাফে কিপার ডেভিড সোরিয়ার বুটে লেগে গোলবারের পাশে দিয়ে যায়।
সোরিয়ার নৈপুণ্যে ২৪তম মিনিটে আবার রক্ষা পায় গেতাফে। পায়ের দারুণ কাজ দেখিয়ে বক্সে ঢুকে আর্দা গুলার লক্ষ্যে শট নেন। বাঁ হাত দিয়ে বল ক্রসবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান সোরিয়া। ৩৯তম মিনিটে অপ্রত্যাশিতভাবে লিড নেয় গেতাফে। টাচলাইন থেকে তাদের এক খেলোয়াড়ের ক্রস হেড করে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন রুদিগার। শুয়োমেনিও চেষ্টা করেন। কিন্তু অতিথি খেলোয়াড় মাউরো আরামবারির হেডে সামনে বল পান সাত্রিয়ানো। বল ভাসতে থাকা অবস্থায় ডান পায়ের ভলিতে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি।
হাফটাইমের ঠিক আগে মাদ্রিদ সমতা ফেরানোর কাছে ছিল। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের ক্রসে অরেলিয়েন শুয়োমেনির ফ্লিক হেড কাছ থেকে রুখে দেন সোরিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে থিয়াগো পিতারশের ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া শট সরাসরি গেতাফে কিপারের হাতে পড়ে। ৫৫তম মিনিটে তিনটি পরিবর্তন আনেন আলভারো আরবেলোয়া। রদ্রিগো, ডিন হুইসেন ও দানি কারভাহাল মাঠে আসেন। কিন্তু গেতাফে রক্ষণভাগ জোরালো করলে মাদ্রিদ জাল খুঁজে পায়নি।
১৫ মিনিট বাকি থাকতে কর্নার কিকে আন্তোনিও রুদিগারের হেড থেকে গোলমুখের সামনে লাফিয়ে হুইসেন বলের নাগাল না পাওয়ায় লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। পরে রদ্রিগোর নিচু হেড ছয় গজ বক্সে থাকলেও সেখান থেকে বল লক্ষ্যে পাঠানোর মতো কেউ ছিলেন না।
মাস্তানতুয়োনোকে আরেকবার রুখে দেন সোরিয়া। রিয়ালের জন্য রাতটা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে এই আর্জেন্টাইন মেজাজ হারিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে। কিছুক্ষণ পর রেফারি খেলা থামানোর বাঁশি বাজালেও বলে অযথা লাথি মেরে বাইরে পাঠিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়েন লিসো।
মন্তব্য করুন