শরিফুল ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের সরদারপাড়া চরাঞ্চলে আগাছানাশক প্রয়োগ করে ৬ কৃষকের ৭ একর জমির তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ ঘটনায় দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন ওসমান গণি, শাফিউল ইসলাম, আবুল বাশার, মিজানুর রহমান ও শাহীনুর রহমানসহ মোট ৬ জন। তারা জানান, তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের ৭ একর জমিতে প্রায় তিন মাস আগে হাইব্রিড ‘মাধুরী’ জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন। ইতোমধ্যে সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। গাছে ফুল ও ফল ধরেছে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠত তরমুজ। কিন্তু এর আগেই অজ্ঞাতভাবে আগাছানাশক প্রয়োগে গাছগুলো ঝলসে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চার থেকে পাঁচ দশক আগে বর্তমান চরাঞ্চলটি ছিল জনবসতিপূর্ণ এলাকা। তিস্তার ভাঙনে জমি নদীগর্ভে বিলীন হলে পরিবারগুলো অন্যত্র সরে যায়। কয়েক বছর আগে চর জেগে উঠলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সেখানে আবার চাষাবাদ শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর তরমুজ আবাদ করা হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান ও তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ রাতের আঁধারে ক্ষেতে আগাছানাশক ছিটিয়ে গাছ নষ্ট করেছেন। কৃষক ওসমান গণি বলেন, বিরোধের সময় তরমুজ আবাদ করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রমজান মাসে এমন ক্ষতিতে পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
আরেক কৃষক শাফিউল ইসলাম বলেন, গরু-ছাগল বিক্রি ও ঋণ নিয়ে তারা তরমুজ চাষ করেছেন। এখন গাছে বিষ প্রয়োগে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। তারা ন্যায়বিচার ও সরকারি সহায়তা কামনা করেন।
অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তরমুজ ক্ষেত নষ্টের ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
রোববার (১ মার্চ) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিকভাবে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি ডিএপি সার ও প্রয়োজনীয় উদ্দীপক প্রয়োগের পরামর্শ দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভবিষ্যতে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এ বিষয়ে দহগ্রাম তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক তাহাজুল ইসলাম সরদার বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন