আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র মোবাইল ট্রাকভিত্তিক লঞ্চারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েনের তথ্য উঠে এসেছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জানুয়ারি থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় স্থির লঞ্চিং স্টেশনের বদলে এম৯৮৩ হেভি এক্সপ্যান্ডেড মোবিলিটি ট্যাকটিক্যাল ট্রাকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনে দ্রুত স্থান পরিবর্তন বা প্রতিরক্ষামূলক মোতায়েন সম্ভব হবে।
ফরেনসিক ইমেজ বিশ্লেষক উইলিয়াম গুডহাইন্ড জানান, ফেব্রুয়ারির শুরুতে তোলা ছবিতে ট্রাক-মাউন্টেড প্যাট্রিয়ট সিস্টেম দেখা গেছে। এভাবে মোতায়েন করলে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের গতিশীলতা অনেক বেড়ে যায়, ফলে দ্রুত অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনও ওই ট্রাকগুলোতে ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পেন্টাগনের কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্যাটেলাইট ছবির তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে বিমান ও সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বেড়েছে। এর মধ্যে কাতের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ১ ফেব্রুয়ারির ছবিতে একটি আরসি-১৩৫ গোয়েন্দা বিমান, তিনটি সি-১৩০ হারকিউলিস, ১৮টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার ও সাতটি সি-১৭ পরিবহন বিমান দেখা গেছে। ১৭ জানুয়ারির ছবিতে ছিল ১৪টি স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার ও দুটি সি-১৭। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০টি এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ট্রাকে স্থাপন করা ছিল।
জর্ডানের মুয়াফফাক ঘাঁটিতে ২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে ১৭টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক বিমান, আটটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট, চারটি সি-১৩০ ও চারটি হেলিকপ্টার দেখা গেছে। অন্য একটি স্থানে একটি সি-১৭, একটি সি-১৩০ এবং চারটি ইএ-১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান শনাক্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে একটি সি-৫ গ্যালাক্সি ও একটি সি-১৭ দেখা গেছে। এ ঘাঁটির ডিসেম্বরের ছবিতে পাঁচটি সি-১৩০ ধরনের বিমান ছিল।
এছাড়া ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় ৬ ফেব্রুয়ারির ছবিতে ৩১ জানুয়ারির তুলনায় সাতটি বেশি বিমান এবং ওমানের দুখান ঘাঁটিতে ২৫ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারির ছবির তুলনায় বিমানসংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে।
মন্তব্য করুন