RCTV Logo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানে এক দোকান থেকে ৩০ জনের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার

ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত করাচি শহরের অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় দুবাই ক্রোকারিজ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এই ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৬১ জনে পৌঁছালো। এখনও এখনও ৪০ জনের বেশি নিখোঁজ আছেন বলেও উল্লেখ করেছেনতিন।

গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার আগুন লাগে করাচির অন্যতম বড় শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায়। প্লাজার বেসমেন্টে প্রথম আগুন লাগে এবং তারপর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে তা। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সূত্রপাত হয়েছে আগুনের। সেই আগুনের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে।

১৯৮০ সালে তৈরি হওয়া এই ৫ তলা শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং ১ হাজার ২ শতাধিক দোকান আছে এখানে। আগুনে এসব দোকানের অধিকাংশই ভস্মীভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশসূত্রে জানা গেছে, এর আগে করাচিতে এত বড় আকারের অগ্নিকাণ্ড দেখা যায়নি।

তবে হতাহত এবং নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানিয়েছেন, গুল প্লাজায় মোট ফটক বা গেইটের সংখ্যা ২৬টি, কিন্তু চলাচলের জন্য ২টি বাদে বাকি সবগুলো গেইট সবসময় বন্ধ থাকতো। আগুন লাগার সময়েও ফটকগুলো আর খোলা হয়নি। ফলে শত শত মানুষ শপিং কম্পেক্সটিতে আটকা পড়েছিলেন। এছাড়া মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোও নষ্ট ছিল বলে জানা গেছে।

বুধাবরের ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বলেন, “প্রাথমিক আনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি যে আগুন থেকে বাঁচার জন্য দোকানটির শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পড়ে এটিই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও আছেন।”

করাচি পুলিশের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান, গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

করাচির পুলিশপ্রধান এবং কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি কমিটি করেছে এবং সেই কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জ্বালানি তেল নিয়ে জরুরি নির্দেশনা, সব ডিসি অফিসে চিঠি

গোবিন্দগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বিরল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল ও ভারতীয় মদ উদ্ধার

দিনাজপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

চ্যাম্পিয়ন হয়ে কত টাকা পেল ভারত?

সিএনজি ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

বাহরাইনে ইরানের ড্রোন হামলায় হতাহত ৩২

দেশের বাঁজারে রুপার দামে বড় পতন

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ড্রোন হামলা

১০ হাজার টাকার ঋণ থেকে ১৫ লাখ টাকার খামার: লালপুরের মুর্শিদা এখন সফল উদ্যোক্তা

১০

পীরগঞ্জে ঢাকাইয়াপট্টি মার্কেটে কসমেটিকস ও কাপড়ের দাম নিয়ে অনিয়ম

১১

আজ উজবেকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

১২

দেশের বাঁজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

১৩

দুপুরের মধ্যে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আভাস

১৪

করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ বাড়ল তেলের দাম

১৫

আজ ০৯ মার্চ, দিনটি কেমন যাবে আপনার?

১৬

নামাজের সময়সূচি – ০৯ মার্চ ২০২৬

১৭

ওসির বিরুদ্ধে চলছিল মানববন্ধন, সেখানে গিয়ে নিজেই দাঁড়ালেন ওসি

১৮

হাদি হত্যার প্রধান আসামী ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেপ্তার

১৯

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানী নির্ধারণ করেছে সরকার

২০