স্পোর্টস ডেস্ক 

রিয়াল মাদ্রিদের কঠিন সময়টা যেন খুব ধীরে পা বাড়াচ্ছে। শিরোপাহীন মৌসুম কাটানোর পর এবার জাবি আলোনসোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল। কিন্তু অধারাবাহিক পারফরম্যান্স, এল ক্লাসিকোয় হার তার বিদায়ের ঘণ্টা বাজায়। এমনকি স্পেনের দ্বিতীয় স্তরের দলের কাছেও হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজারা মোনাকোর বিপক্ষে যেন পুরোনো ছন্দ ফিরে পেল। ফরাসি ক্লাবটিকে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিলো রিয়াল।
নিজেদের ডেরা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মোনাকোকে আতিথ্য দেয় আলভারো আরবেলোয়ার দল। সফরকারীরাও অবশ্য লড়াই জমিয়েছে, তবে কার্যকর আক্রমণে তারা রিয়ালের ধারেকাছেও ছিল না। লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে কিলিয়ান এমবাপে জোড়া এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম ও ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো একটি করে গোল করেছেন। আরেকটি গোল আসে মোনাকোর আত্মঘাতী অবদানে। পাশাপাশি জর্ডান তেজে তাদের পক্ষে সান্ত্বনার এক গোল করেন।
৫৩ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি রিয়াল গোলের জন্য ২৩টি শট নেয়, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৭টি। বিপরীতে মোনাকো ১৮ শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে সমর্থকদের মুখে দুয়ো শোনা রিয়াল তাদের মান ভাঙানোর আশায় গোলের শুরুটা করে পঞ্চম মিনিটে। ডি বক্সে দেওয়া ফ্রেদরিকো ভালভার্দের পাস পেয়ে এক স্পর্শে এমবাপে গোল করেন। মোনাকো সমতায় ফিরতে পারত ১৯ মিনিটে। ফাঁকায় বল পেয়েও আনসু ফাতি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। মিনিট সাতেক পর ভিনিসিয়ুস বক্সে ঢুকে পাস দেন এমবাপেকে, আগুয়ান মোনাকো গোলরক্ষককে সেটি আগেই অতিক্রম করেছিল। প্লেসিং শটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক।

এ নিয়ে চলমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শীর্ষ গোলদাতা এমবাপের এটি ১১তম গোল। এর আগে ইউসিএলের এক আসরে তার গোল ছিল সর্বোচ্চ ৮টি। ৩১ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় মোনাকো। তবে জর্ডান টেজের বুলেট গতির শট ক্রসবারে পরাস্ত হয়। বিরতির আগে তাদের আরেকটি শট থিবো কোর্তোয়া লাফিয়ে ফিরিয়েছেন। বিরতির পর ফিরে ষষ্ঠ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার মাস্তান্তুয়োনো। ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে বল পেয়ে তিনি কোনাকুনি শটে দূরের পোস্টে সফল লক্ষ্যভেদ করেন। ৫৫ মিনিটের গোলেও অবদান ছিল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের, ভিনিসিয়ুস আর্দা গুলারকে লক্ষ্য করে বল দিলেও সেটি ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়ান মোনাকোর ডিফেন্ডার থিলো কেহরার।
এতক্ষণ ভিন্নভাবে আলো ছড়ানো ভিনিসিয়ুস এবার স্কোর করলেন ৬৩ মিনিটে। গুলারের বাড়ানো বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে তিনি জোরালো শট নেন, ক্রসবারে লেগে গোললাইন পেরোতেই উল্লাসে মাতেন এই সেলেসাও তারকা। মোনাকো সান্ত্বনার গোল পায় ৭২ মিনিটে, রিয়ালের ফুটবলাররা নিজেদের মাঝে অহেতুক বল দেওয়া-নেওয়ার সময় জর্ডান তেজে পেয়ে যান, মোনাকোর এই ডাচ সেন্টারব্যাক সেটি জালে পাঠান। ৮০ মিনিটে রিয়ালের ব্যবধান আরও বাড়ান বেলিংহ্যাম, ভালভার্দের থ্রু পাসে জায়গা বানিয়ে মোনাকোর জালে জড়ান তিনি। বাকি সময়ে আরও কিছু সুযোগ তৈরি হলেও কোনো গোল হয়নি। ৬-১ ব্যবধানে বড় জয় নিয়ে ফেরে আরবেলোর দল।

ইউসিএলের সর্বশেষ রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ঘরের মাঠে হারা রিয়াল এবার জয়ে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে বড় লাফ দিলো। ৭ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন দুইয়ে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। অন্যদিকে, মোনাকো ৯ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে রয়েছে।
মন্তব্য করুন