লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণটারী এলাকায় বোনের ঘর থেকে স্বপ্না বেওয়া (৪৫) নামে এক নারীর বালিশ চাপা দেওয়া বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৪ মে) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বপ্না বেওয়ার প্রায় ২০ বছর আগে একই এলাকার আবুল কালামের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি একাই বসবাস করতেন। তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মেয়ে সিলেটে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। গত চারদিন আগে স্বপ্না সিলেটে মেয়ের বাসা থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তার আরেক বোন ঢাকায় বসবাস করায় বাবার বাড়ির ওই ফাঁকা বাড়িতে স্বপ্না একাই থাকছিলেন।
রবিবার সকালে অনেক বেলা হলেও স্বপ্না ঘুম থেকে না ওঠায় পাশের বাড়ির ভাতিজা তাকে ডাকতে যান। এ সময় বাড়ির মূল ফটক খোলা থাকলেও ঘরের তিনটি দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করলে বিছানায় স্বপ্নার বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ সময় তার মুখে বালিশ চাপা দেওয়া ছিল এবং বালিশ সরাতেই নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। যে খাটের ওপর মরদেহটি ছিল, সেটিও ধস্তাধস্তির কারণে ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে।
নিহতের বোন শাহিনা খাতুন বলেন, সকালে তাকে ডাকার জন্য গেলে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়ির মেইন গেট খোলা ছিল। আমার আরেক বোন ঢাকায় থাকায়, ফাঁকা বাড়িতে স্বপ্না একাই থাকতো। চারদিন আগে সে মেয়ের বাসা সিলেট থেকে এসেছে। আজ সকালে খাটের ওপর তার বিবস্ত্র লাশ পাওয়া যায়, খাটটিও ভাঙা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হাসান সেলিম জানান, চেঁচামেচি শুনে আমরা দৌড়ে আসি। এসে দেখি তার মুখে বালিশ চাপা দেওয়া এবং পরনে কোনো কাপড় নেই। বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। ধারণা করছি, রাতের অন্ধকারে কেউ প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, সকালে দুর্গাপুর থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। নিহত নারী ২০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা হন এবং এই বাড়িতে একাই থাকতেন। প্রাথমিকভাবে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন