প্রাকৃতিক দুর্যোগ—যেমন হারিকেন, ভূমিকম্প, বন্যা কিংবা দাবানল—মানুষের জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিকভাবে আগাম পূর্বাভাস দেওয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
এআইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিপুল তথ্য দ্রুত এবং সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। আবহাওয়া, ভূগোল এবং পানির স্তরের পরিবর্তনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
মেশিন লার্নিং মডেলগুলো ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ এবং তীব্রতা পূর্বাভাস দিতে পারে। ২০২২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মডেল প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নির্ধারণে ৪০ শতাংশ বেশি কার্যকর। এটি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং উদ্ধারকাজকে আরও কার্যকর করেছে।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া বরাবরই কঠিন। তবে এআই ছোট ভূমিকম্পের নড়াচড়া বিশ্লেষণ করে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকাগুলোতে বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
বন্যা পূর্বাভাসেও এআই এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে ভারতের একটি অঞ্চলে গুগলের এআইচালিত পূর্বাভাস ব্যবস্থা বড় ধরনের বন্যার সতর্কতা দিয়েছিল, যা মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হয়।
দাবানলের ক্ষেত্রে, এআই স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এআই ব্যবহার করে দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
যদিও এআই নির্ভুল নয় এবং এর কার্যকারিতা উচ্চমানের ডেটার ওপর নির্ভরশীল, তবে এর উন্নয়নে গবেষকরা প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন আশার আলো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবনী ব্যবহার মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে এআই ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সমাধান নিয়ে আসবে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © RCTV. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।