
হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মানুষ। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে নারী,পুরুষ শিশু- বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে স্বস্তি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে যেন উৎসবের আবহাওয়া সীমান্ত এলাকার এসব মানুষেদের মাঝে৷
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তঘেষা বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চালু হয়েছে ২৪ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা৷
স্থানীয় বাসিন্দা,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক দুলাল হোসেন বাচ্চুর ব্যক্তি উদ্যোগে চালু হওয়া এই সেবাকে সদরে বরণ করে নিয়েছে ইউনিয়নের মানুষ।
এ যেন শুধু একটি অ্যাম্বুলেন্সকে স্বাগত জানানো নয়, দীর্ঘদিনের একটি ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশাকে বরণ করে নেয়া, বলছেন স্থানীয় মানুষরা।
জানা যায়, অত্যন্ত এই এলাকায় হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে, প্রসূতি মায়ের জরুরী প্রয়োজন হলে কিংবা দুর্ঘটনা কেউ আহত হলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়াতো দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানো।বিশেষ করে রাতের বেলায় গাড়ি পাওয়া ছিল আরও কঠিন । কখনো গাড়ির খোঁজে ছুটতে হতো,আবার কখনো দূরে কোন মাইক্রোবাসের অপেক্ষায় নষ্ট হতো মূল্যবান সময় । সেই বাস্তবতায় নতুন এই অ্যাম্বুলেন্স যেন সংকটের মুহূর্তে মানুষের হাতের নাগালে পাওয়া একটি আশার ঠিকানা
শনিবরার সকাল থেকে এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেও গতকাল উদ্বোধন হয় শুক্রবার বিকেলে৷ এমসয় অ্যাম্বুলেন্সটিভ বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়রা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। অনেকেই এগিয়ে এসে বাস্তবায়নকারী সেই ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকে শুভেচ্ছা জানান। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুধু তাই নয়,পরের যিনি এই অ্যাম্বুলেন্সটি উপহার দিয়েছেন তাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন স্থানীয়রা। ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা ঘুরে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন এম্বুলেন্সেবার কথা জানানো হয়। মোটরসাইকেলের সাড়ি,মানুষের হাত নাড়া, আর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন,সব মিলিয়ে সীমান্তের এই এলাকায় তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ।
আরও জানা যায়, এই সেবা কি আরো কার্যকর করতে স্থানীয় তরুণদের একটি দল সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবে। জরুরী সময় রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা, প্রয়োজন সহযোগিতা করা এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা পাশে থাকবেন। ইতিমধ্যে সেই স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এলাকায় এম্বুলেন্স চালকের ফোন নম্বর মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছিয়ে দিচ্ছে, যেন প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে পারেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এই অ্যাম্বুলেন্স শুধু রোগী পরিবহনে একটি মাধ্যম হবে না। বরং সংকটের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া এবং মানুষের জীবন রক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।
কথা হয় ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা হবিবর রহমানের সাথে, তিনি বলেন, আমরা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করি। এই এলাকার মানুষ অনেক গরিব। হঠাৎ করে কোন মানুষ অসুস্থ হলে মাইক্রোবাস জোগাড় করে তারপর হাসপাতালে রওনা হতে হয়। এতে অনেক সময় লাগার কারণে অনেকে পথের মধ্যে মারা যায়। আজকে বাচ্চু ভাই যে এম্বুলেন্স দিলেন এটি অনেক উপকার হবে এই এলাকার মানুষের জন্য।
একই কথা বলেন রেজাউল করিম রাজু নামে আরেক তরুণ, তিনি বলেন, এই অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক উপকারে আসবে এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য। যিনি এই উপহার দিয়েছেন তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার আনন্দে আজকে আমরা পুরো এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি।
অ্যাম্বুলেন্সে চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি শুধু একটি গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নয় আমার। মানুষের বিপদের সময় দুটো পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। দিন রাত ২৪ ঘন্টা সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
অ্যাম্বুলেন্সের চালকরাও বলছেন, এটি শুধু একটি গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নয়; মানুষের বিপদের সময়ে দ্রুত পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে দুইজন চালক দায়িত্ব পালন করবেন।
উদ্যােক্তা দুলাল হোসেন বাচ্চু বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিন ধরে রোগী পরিবহনের অনেক কষ্ট হয় এটা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। কোন মানুষ অসুস্থ হলে অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। আশপাশে কোন এম্বুলেন্স নেই। বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাসে যেতে হয় আবার অনেক সময় অপেক্ষা করে পাওয়া যায়। এতে অনেক দুর্ভোগে পড়াতে হয় রোগী ও স্বজনদের। তাই আমি উদ্যোগ নিয়েছি ব্যক্তিগতভাবে এই এম্বুলেন্স সেবা পৌঁছে দেয়ার। এম্বুলেন্স চালকের ফোন নম্বর ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দেয়া হয়েছে এবং স্থানীয় তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবে।
স্থানীয় আব্দুর রশিদ নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,এটি একটি মহতী উদ্যোগ। যিনি বাস্তবায়ন করেছেন তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেয়ে এই এলাকার অনেক মানুষ উপকৃত হবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.