
প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পেরিয়ে গেলেও নীলফামারী সরকারি কলেজে বাড়েনি শিক্ষার্থীর অনুপাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও রয়েছে শিক্ষক সংকট, পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবনের অভাব, জরাজীর্ণ ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস, পরিবহন সংকটসহ নানা সমস্যা।
এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী প্রায় ১৫ হাজার এবং প্রাইভেট শিক্ষার্থী প্রায় ৩ হাজার। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় সময়সূচি পরিবর্তন করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
১৯৫৮ সালের ১৬ মে ২ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর নীলফামারী সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ৭ মে কলেজটি সরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে কলেজটির আয়তন ২৩ দশমিক ১৫ একর। এখানে ১৪টি বিষয়ে অনার্স এবং ১২টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। তবে প্রাণিবিদ্যা ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স না থাকায় এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ মোট ৮৩টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৬৬ জন। বর্তমানে ২৩টি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে ইংরেজি বিভাগে চারটি, অর্থনীতি তিনটি, ব্যবস্থাপনা তিনটি, উদ্ভিদবিজ্ঞান তিনটি, বাংলা দুটি, হিসাববিজ্ঞান দুটি, পদার্থবিজ্ঞান দুটি এবং ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা ও গণিত বিভাগে একটি করে পদ রয়েছে।
শিক্ষক সংকটের কারণে বিভিন্ন বিভাগে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। জরাজীর্ণ ছাত্রাবাস, বাড়ছে আবাসন সংকট
কলেজটিতে একটি ছাত্রাবাস ও দুটি ছাত্রীনিবাস রয়েছে। তবে এগুলোর মধ্যে কয়েকটির অবস্থা জরাজীর্ণ। বিশেষ করে পুরোনো ছাত্রাবাস ভবনটি নিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী কলেজের বাইরে মেস ও বেসরকারি ছাত্রাবাসে থাকছেন। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক একরামুল হক বলেন, জেলার প্রায় পাঁচটি উপজেলা থেকে শিক্ষার্থীরা নীলফামারী সরকারি কলেজে পড়তে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। কলেজের নিজস্ব বাসের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবেন।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সারাবান তহুরা বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আসন নেই। একাডেমিক ভবনের সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। পরে সময় পরিবর্তন করে পাঠদান সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন শিক্ষকরা।
নীলফামারী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. পায়েলুজ্জামান রক্সি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কলেজ ছাত্র সংসদ চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ছাত্রাবাস সংকট দূর করতে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ এবং প্রাণিবিদ্যা ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালুর দাবি জানান তিনি।
নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজটি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে ২৩টি পদে শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাসের সংকট রয়েছে। দুটি ছাত্রীনিবাসের মধ্যে একটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যে ছাত্রাবাসটি রয়েছে সেটিও অনেক পুরোনো, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা গেলে তাদের যাতায়াত ব্যয়ও কমবে।
শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না হলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.