পৃথিবী থেকে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন বা ২২.৫ কোটি কিলোমিটার দূরের লাল মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের কৌতূহলের সীমা নেই। এর মধ্যেই নাসার কিউরিওসিটি রোভারের তোলা মঙ্গলপৃষ্ঠের একটি ছবিতে অদ্ভুত একটি অবয়ব দেখা যাওয়ার পর নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। দূর থেকে অবয়বটিকে অনেকটা জেলিফিশের মতো দেখতে কোনো প্রাণী বা বস্তু বলে দাবি করছেন অনেকেই। এ নিয়ে মহাকাশপ্রেমী ও ইউএফও গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। খবর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইলের।
ডেইল মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউরিওসিটি রোভার ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট মঙ্গলগ্রহের গেইল ক্র্যাটার অঞ্চলে একটি ছবি ধারণ করে। ছবিতে ধুলোময় মঙ্গলপৃষ্ঠ, পাথুরে পাহাড় ও উঁচু-নিচু ভূখণ্ডের মাঝে ছবিটির এক পাশে ছোট একটি অস্বাভাবিক আকৃতির অবয়ব দেখা যায়। অবয়বটির ওপরের অংশ কালচে এবং নিচে সরু কয়েকটি অংশ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এ কারণেই অনেকে এটিকে জেলিফিশের মতো কোনো প্রাণী বা অজানা কোনো যন্ত্র বলে দাবি করছেন।
তবে কৌতূহলের বিষয় হলো, একই এলাকার তোলা অন্য ছবিতে ওই অদ্ভুত অবয়বটির কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি এর কিছুক্ষণ আগের ছবিতেও সেটি ছিল না বলে আলোচনায় এসেছে। যার কারণে এটি মঙ্গলপৃষ্ঠের কোনো পাথর, আলোর প্রতিফলন, ক্যামেরার ত্রুটি নাকি সত্যিই অন্য কোনো বস্তু কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ছবিটি ঘিরে নানা ধরনের জল্পনাকল্পনা শুরু হলেও বিজ্ঞানীরা একে অতিপ্রাকৃতিক কিছু বলে মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি ক্যামেরা সেন্সরের ত্রুটি, পিক্সেলের বিকৃতি বা একমুহূর্তের কোনো কারিগরি সমস্যা হতে পারে। মানুষের মস্তিষ্ক যখন অস্পষ্ট বা অসংলগ্ন কোনো ছবিতে পরিচিত কোনো আকৃতি বা অবয়ব খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাকে প্যারেডোলিয়া বলা হয়। যেমন- ১৯৭৬ সালে নাসার ভাইকিং ১ অরবিটারের ছবিতে মঙ্গলের একটি পাহাড়কে মানুষের মুখের মতো মনে হয়েছিল। পরে উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবিতে দেখা যায় ছায়া এবং নিম্ন মানের ক্যামেরার কারণেই এই ভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল সেসময়।
এ ছাড়া অনেকেই দাবি করেছেন, বস্তুটি নাসার ইনজেনুইটি মার্স হেলিকপ্টার হতে পারে। তবে নাসার তথ্য অনুযায়ী, ছবি তোলার সময় ইনজেনুইটি এই স্থান থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ক্রাটারে অবস্থান করছিল। তাই এ ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়নি।
নাসা অতীতে মঙ্গলগ্রহে জীবনের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে আসছে। কিউরিওসিটি রোভারও মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও প্রাচীন পরিবেশ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাই নতুন এই ছবিটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও এর মাধ্যমে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে এমন দাবি করার সময় এখনো আসেনি।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.