
গাইবান্ধায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে সোনালী আঁশের সমারোহ দেখে কৃষকের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভালো ফলন ও বাজারে গতবারের চেয়ে কিছুটা ভালো দাম পাওয়া সত্ত্বেও সার, বীজ, কীটনাশক ও অতিরিক্ত শ্রমমূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে উৎপাদন খরচ তোলাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কৃষকদের জন্য।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৯৮৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন পেয়েছেন চাষিরা। বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
তবে এই দামকেও লাভজনক বলতে নারাজ চাষিরা। সদর উপজেলার গিদারী এলাকার পাট চাষি রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ফলন ভালো হইছে ঠিকই, কিন্তু সারের বস্তা কিনতেই পকেট খালি হয়ে যায়। কীটনাশকের দাম দ্বিগুণ। তার ওপর কামলার (দিনমজুর) চড়া মজুরি। সব খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, কোনোমতে আসল টাকাই ঘরে তোলা দায়। কৃষকদের অভিযোগ, চাষাবাদের শুরু থেকেই ইউরিয়া ও পটাশ সারের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম তাদের হিমশিম খাইয়েছে। একইসাথে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কা কাটছে না তাদের।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো: রোস্তম আলী বলেন, আমরা শুরু থেকেই কৃষকদের সার, বীজ ও উপকরণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি। কৃষকরা যদি নিবন্ধিত ডিলারদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে উপকরণ সংগ্রহ করেন, তবে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। আমরা তাদের পাশে আছি।
সোনালী আঁশের সুদিন ফেরাতে শুধু বাম্পার ফলনই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি উপকরণের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণ, সার-কীটনাশকের বাজারে কঠোর তদারকি এবং সরকারি পর্যায়ে সরাসরি পাট কেনার ব্যবস্থা জোরদার করা না গেলে, অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে পাট চাষে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞমহল।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.