গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অন্তহীন পথে এগিয়ে চলছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম, অর্জন ও আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি হামলা, মামলা, গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার দল বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বিএনপির সরকার, যা সত্যিই জনগণের মত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। আজ থেকে ঠিক ছয় মাস আগে, অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি এই সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য শপথ নিয়েছিল। আজ সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান আসলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থারই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
তিনি বলেন, বিগত ছয় মাসে আমাদের সবচেয়ে বড় ও লক্ষণীয় অর্জন হলো, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব ও অবিচল জনসমর্থন। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের দীর্ঘ অচলাবস্থা পেরিয়ে দেশের মানুষ অবশেষে নিজেদের পছন্দের দলকে ও প্রার্থীকে মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আজ এমন এক সরকার অধিষ্ঠিত হয়েছে, যার ক্ষমতার একমাত্র উৎস দেশের জনগণ। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দল বিএনপি এবং দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক যে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং গভীর আবেগ ও অনুভূতির, তা আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একইভাবে, আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের যে বাঁধভাঙা উপস্থিতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে এই দলের প্রতি এবং এর নেতৃত্বের প্রতি জনগণের ভালোবাসা কতটা অকৃত্রিম।
সরকারের ১৮০ দিনের অর্জন তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র
পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এবার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে সরকারের প্রতিটি জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই জনতার ঢল নেমেছে। মানুষের এই অটুট আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ধারণ করেই সরকার প্রতিটি পদক্ষেপে দেশ ও জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে নিছক কথার কথা না রেখে, সেখানে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।
সরকারের ইশতেহার ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, পবিত্র রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন শিক্ষা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সংসদে রেকর্ড সংখ্যক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগসহ ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে যানজটের যে সমস্যা রয়েছে, তা নিরসনে পর্যায়ক্রমে এআই ট্র্যাফিক সিস্টেমের পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে তাদের প্রাধান্য দিয়ে খুব শিগগিরই আলাদা পিংক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হবে। ঢাকার রাজপথে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যানবাহনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিফিকেশন কীভাবে বাড়ানো যায়, সে ধরনের কার্যকর উদ্যোগ চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বহুল আলোচিত বিভিন্ন মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
সুত্রঃ কালবেলা
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.