ফেসবুকের মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে সৃষ্ট মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে গঠিত একটি তহবিলে এ জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই রায়টি একটি যুগান্তকারী মামলার দ্বিতীয় পর্বের অংশ হিসেবে এসেছে। মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চে হেরে যায়। সে সময় বিচারকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সংস্থাটি জেনেশুনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন শোষণ সম্পর্কে যা জানত, তা গোপন করেছে। বিচারকরা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আরোপ করেন।
বৃহস্পতিবারের এই রায়ে সেই জরিমানার সঙ্গে আরও একটি জরিমানা যোগ করা হয়েছে। এর ফলে মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ ৯৪২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিচারক ব্রায়ান বিডশাইড বলেন, এই অর্থের সিংহভাগ, অর্থাৎ ৪২০ মিলিয়ন ডলার, নিউ মেক্সিকোর তরুণদের চিকিৎসাসেবার জন্য ব্যবহার করা হবে। বাকি অর্থ আগামী পাঁচ বছর ধরে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, স্ক্রিনিং-সেবা এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হবে।
গত মার্চে দেওয়া রায়ের মাধ্যমে মেটাকে প্রথমবারের মতো তাদের প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালে দ্য গার্ডিয়ানের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল, কীভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশু যৌন পাচারের বাজারে পরিণত হয়েছে।
মেটার বেশ কয়েকজন সাবেক মডারেটর দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে তারা শিশু যৌন নির্যাতন-সম্পর্কিত ক্ষতিকর বিষয়বস্তু চিহ্নিত করলেও বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়নি।
গত মে মাসে শুরু হওয়া মামলার দ্বিতীয় পর্বে প্রসিকিউটররা বিচারককে মেটায় মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল আসক্তি সৃষ্টিকারী বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করা, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং ডিফল্ট প্রাইভেসি সেটিংস ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে শিশু যৌন শোষণ প্রতিরোধ করা।
বিচারক আরও কিছু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে ব্যানার এবং তথ্যমূলক স্ক্রিন তৈরি করতে বলা হয়েছে, যাতে তাদের সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য, সর্বোত্তম অনুশীলন এবং অনুপযুক্ত মন্তব্য মোকাবিলার সরঞ্জামগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
আদালত বলেছেন, ফেডারেল শিশু গোপনীয়তা আইন মেটাকে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স যাচাইয়ের সরঞ্জাম প্রয়োগ করা থেকে বিরত রেখেছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র মেটার জন্য শিশুদের বয়স যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য না করা সংস্থাটির জন্য ‘অন্যায্য এবং অযাচিতভাবে ক্ষতিকর’ হবে।
এর পরিবর্তে আদালত মেটাকে নিউ মেক্সিকোতে তাদের বয়স-নিশ্চয়তা সরঞ্জামের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেন কোনো ধরনের পরিণতি ছাড়াই তরুণদের বিপন্নকারী কর্মকাণ্ড থেকে মুনাফা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য ছিল।'
বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানিটি ‘এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে’। তারা অবিলম্বে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে।
সূত্র : আল জাজিরা
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.