
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারীতে বর্ণাঢ্য গণসমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ জুলাই) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক ডিসির মোড়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন,
"জুলাই বিপ্লবে দেড় হাজারের বেশি শহীদ ও হাজারো আহত ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আজ দেশে নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সরকার সেই জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণা করছে। জুলাইয়ের রায় বাস্তবায়নে কোনো তালবাহানা সহ্য করা হবে না। দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে জুলাইয়ের চেতনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।"
তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং কোনো অন্যায় আচরণ করা হলে জামায়াত কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন সরকার নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভুলে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে ফ্যাসিবাদের পথ পরিহার করার দাবি জানান।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন বিগত সরকারের আমলের নিপীড়নের কথা স্মরণ করে বলেন, "এই ডিসির মোড়েই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের কোনো কর্মসূচি করতে দেয়নি। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ফসল এই সরকার যেন আজ সেই স্বৈরাচারের পথেই না হাঁটে।"
জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সেলিম উদ্দিন বলেন দ্রুত জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে ছাত্রশিবির আবার রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশ ও মিছিলে জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য
জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা অফিস সম্পাদক আব্দুল কাদিম, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা আবু হানিফা শাহ, জলঢাকা উপজেলা আমীর মাওলানা মোখলেসুর রহমান, ডিমলা উপজেলা আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান এবং সৈয়দপুর উপজেলা আমীর শরাফ উদ্দিন খান।
অঙ্গ-সংগঠন ও অন্যান্য নেতা: শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, উপজেলা সেক্রেটারি হামিদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি আহমেদ রায়হান, অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান আজাদ
এসময় উপস্থিত ছিলেন
বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু ও জেলা মিডিয়া বিভাগ সভাপতি সাদের হোসেন।
ডিসির মোড়ে গণসমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নীলফামারী বাজার মোড় (ট্রাফিক মোড়) এলাকায় গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। এতে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত জামায়াত-শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.