কৃষকের সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরি এবং সরকারি কৃষি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে নাটোরে কৃষক কার্ড প্রণয়নের লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। জেলার সাতটি উপজেলার কৃষি ব্লকে কৃষক, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী ৫ আগস্টের আগেই জেলার সব সম্ভাব্য কৃষকের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর কৃষি ব্লক এবং নলডাঙ্গা উপজেলার সমকলসী কৃষি ব্লকে চলমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্রপ উইং) ড. সালমা লায়লা। এ সময় তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নাটোর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই থেকে জেলার সাতটি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮২ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উপজেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
জেলায় সম্ভাব্য কৃষকের সংখ্যা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৯৫ জন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯৬ জনের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৫ শতাংশ।
উপজেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি অনুযায়ী নাটোর সদরে ১ হাজার ৪৫৯ জন, নলডাঙ্গায় ২ হাজার ৩২০ জন, সিংড়ায় ২ হাজার ২০৮ জন, গুরুদাসপুরে ১ হাজার ৭৯৫ জন, বড়াইগ্রামে ২ হাজার ৩৪৭ জন, লালপুরে ৮৫৪ জন এবং বাগাতিপাড়ায় ১ হাজার ৩২২ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, শুধু কৃষকের নাম-ঠিকানা নয়, তাদের আবাদি জমির পরিমাণ, মৌসুমভিত্তিক চাষাবাদ, ব্যবহৃত সার ও বীজ, সরকারি প্রণোদনা গ্রহণের তথ্যসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট নানা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খামারি ও মৎস্যচাষিদের তথ্যও একই ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
নলডাঙ্গা উপজেলার সমকলসী কৃষি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ, মো. সাইদুর রহমান ও মো. শাহজাহান আলী জানান, অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় অনলাইনে তথ্য আপলোড করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব তথ্য সংগ্রহ ও আপলোড সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
সিংড়া উপজেলার ভাঙ্গনগরকান্দি কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা জান্নাত বলেন, ১২ সদস্যের একটি দল দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। যেসব কৃষককে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সুবিধাজনক সময়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন, কৃষক কার্ড চালু হলে একজন কৃষকের সব ধরনের তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারি ভর্তুকি, কৃষি প্রণোদনা, বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানও সহজ হবে।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী ৫ আগস্টের আগেই জেলার সব কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার কৃষকদের একটি নির্ভুল ও আধুনিক ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। এর ফলে কৃষি খাতে পরিকল্পনা গ্রহণ, সরকারি সহায়তা প্রদান এবং কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.