
কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে চলতি মৌসুমে জেলার আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। নষ্ট হওয়া বীজতলা পুনরায় তৈরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও সময় অপচয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলার ৮১টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভার মধ্যে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নদীবেষ্টিত। এসব এলাকায় প্রায় ১৬৫টি ছোট-বড় চর রয়েছে, যা সামান্য বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয়।
চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেলাজুড়ে ৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে, যার মধ্যে ৩৩.৫ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৩১০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিও বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয় এবং শ্রাবণের শুরু থেকে ভাদ্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাঠে চারা রোপণ চলে। এবারও সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টি এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চারা গাছে পচন ধরেছে।
সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হোসেন আলী জানান, একনাগারে বৃষ্টির কারণে তার সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
একই দুর্ভোগের কথা জানান পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের কৃষক জয়নাল মিয়া ও বকুল মিয়া। আট বিঘা জমিতে আমন চাষের জন্য তৈরি করা ২৫ শতক জমির চারা এক সপ্তাহ পানির নিচে থাকায় পচে গেছে বলে জানান জয়নাল। অন্যদিকে, বকুল মিয়া জানান, চারা পচে যাওয়ায় এখন চড়া দামে বাজার থেকে বীজ কিনে বা অন্য কৃষকের কাছ থেকে চারা কিনে রোপণ করতে হবে, যা তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামের কৃষক আজগর আলী আক্ষেপ করে বলেন, “ঘন ঘন বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে সব চারা নষ্টের উপক্রম হয়েছে। বেশি দামে বীজ কিনে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে। এতে আমাদের আমন চাষ অন্তত ২০ দিন পিছিয়ে যাবে।”
কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.