বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচনা করলেন ফ্রান্সের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে। নিজেদের শেষ ম্যাচে একটি গোলে সহায়তায় মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ ৭টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে একটি চমৎকার ‘ওয়ান-টু’ কম্বিনেশনের মাধ্যমে তিনি এই কীর্তি গড়েন।
এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ওলিসের সপ্তম অ্যাসিস্ট, যার মাধ্যমে তিনি ১৯৭০ বিশ্বকাপে গড়া ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের (৬টি অ্যাসিস্ট) ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিলেন।
চলতি বিশ্বকাপে ওলিসের এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্স তাকে গোল্ডেন বলের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার (২২ গোল) চূড়ায় বসাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তার একেকটি নিখুঁত পাস প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে।
তবে অ্যাসিস্টের বন্যা বইয়ে দিলেও পুরো টুর্নামেন্টে ওলিসের একমাত্র দুর্বলতা ছিল গোল করার দিক থেকে। বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে মোট ২০টি শট নিয়েও একবারও জালের দেখা পাননি তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার ম্যাচে ফ্রান্স ওলিসের এই গোলখরা খুব করেই মিস করেছিল।
এমনকি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই হাই-স্কোরিং ম্যাচেও ওলিসে তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে ফ্রান্স ৪ গোল করেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে যায়।
অবশ্য গোল করতে না পারার এই ব্যর্থতা দিয়ে ওলিসকে মনে রাখা হবে না। ২০২৬ বিশ্বকাপে তার পরিচয় হয়ে থাকবে একজন অনন্য রূপকার হিসেবে। টুর্নামেন্ট জুড়ে তার নিখুঁত ও অবিশ্বাস্য সব অ্যাসিস্টের কল্যাণে তিনি এমন একটি রেকর্ড গড়েছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.